ইন্ডিয়া জোটে অশান্তি। জেন জি বিক্ষোভের আগে পর্যন্ত এ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। জেন জি বিক্ষোভের আবহে কিছুদিন একজোট ছিলেন দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। সেই বিক্ষোভ পর্ব মিটতেই নিজেদের পুরনো খেয়োখেয়ি শুরু। এবার অশান্তির খবর কাশ্মীর থেকে। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার ডাকে সাড়া দিচ্ছে না কংগ্রেস। হাত শিবির কোনওভাবেই কাশ্মীরের মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে চায় না।
২০২৪ সালে ঐতিহাসিক নির্বাচনে কাশ্মীরে সাফল্য পায় কংগ্রেস-ন্যাশনাল কনফারেন্স জোট। যদিও কংগ্রেসের চেয়ে ন্যাশনাল কনফারেন্সের স্ট্রাইক রেট অনেকটাই বেশি ছিল। ৯০ আসনের জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় ওমর আবদুল্লার দল পায় ৪১ আসন। কংগ্রেস পায় মাত্র ৬টি আসন। এর বাইরে পিডিপি ৪ এবং কয়েকটি ছোট দল কয়েকটি আসন পায়। বিজেপি পায় ২৯ আসনে। কংগ্রেস এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স জোট সরকার গড়ে। কয়েকটা ছোট দল ন্যাশনাল কনফারেন্সকে সমর্থন করে। সেসময় মাত্র ৫ জন মন্ত্রীপদে শপথ নেন। চমকপ্রদভাবে সেই মন্ত্রিসভায় কংগ্রেসের কোনও প্রতিনিধি ছিল না। সেসময় হাত শিবির জানায়, আবদুল্লার সরকারে সরাসরি তারা যোগ দেবে না।
সেসময় ঠিক হয়, রাজ্যসভা নির্বাচনে ন্যাশনাল কনফারেন্স একটি আসন হাত শিবিরকে ছাড়বে। কিন্তু গত বছর রাজ্যসভা নির্বাচনের সময় সেই আশ্বাস রাখেননি আবদুল্লারা। চার আসনের মধ্যে জোটের তরফে ৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দেয় ন্যাশনাল কনফারেন্সই। চতুর্থ আসনটি কোনওভাবেই জোটের পক্ষে জেতা সম্ভব ছিল না। আবদুল্লাদের সেই সিদ্ধান্তকে বেইমানি হিসাবে দেখাছে হাত শিবির। সূত্রের খবর, কিছুদিন আগে ফের কংগ্রেসকে মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান করেছিলেন ওমর আবদুল্লা। কিন্তু হাত শিবির সেই ডাকে সাড়া দেয়নি। এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক তথা কাশ্মীরের বিধায়ক গুলাম আহমেদ মীর জানিয়ে দিয়েছেন, "আমাদের অবস্থান বদলাচ্ছে না। আমরা সরকারে যোগ দেব না।"
আসলে ওমর কংগ্রেসের জোটে থাকলেও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করেই চলেছেন। সেভাবে কেন্দ্রের প্রখর বিরোধীদের মধ্যে তিনি নন। যা নিয়ে আগেও উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন কংগ্রেস নেতারা। এআইসিসির কাছে জোট পর্যালোচনার জন্য আবেদনও জানানো হয়েছিল। বস্তুত কাশ্মীরের কংগ্রেস নেতারা ওমরকে আর বিশ্বাস করতে পারছেন না। বিশেষ করে রাজ্যসভার আসনের ক্ষেত্রে 'বেইমানি' করার পর। ফলে সব মিলিয়ে ইন্ডিয়া জোটে বড়সড় ভাঙনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
