সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আগামিকাল জন্মাষ্টমী, শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি। তার আগেই স্বাধীনতা দিবসে প্রতিরক্ষা নিয়ে বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির।আর সেই ঘোষণার সঙ্গেও ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রইল কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের অন্যতম কৌশলী ভগবান কৃষ্ণই। ইজরায়েলের মতোই আকাশপথে শত্রুর হামলা রুখে দিতে ভারত তৈরি করবে নিজস্ব আয়রন ডোম। আর সেই মিশনের নাম 'মিশন সুদর্শন চক্র'। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য শ্রীকৃষ্ণ বারবার নিজের অস্ত্র সুদর্শন চক্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন। এবার সেই অস্ত্রকেই এবার ভারতীয় প্রতিরক্ষার অন্যতম প্রতীক করে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার লাল কেল্লায় এমনটাই জানিয়েছিলেন নমো।
শুক্রবার লাল কেল্লায় নমো জানিয়েছেন, ভারত খুব শীঘ্রই 'মিশন সুদর্শন চক্র' আনতে চলেছে যা ভারতীয় আকাশসীমার ঢাল হয়ে রক্ষা করবে। শুধু তাই নয়। পালটা প্রতি আক্রমণ করতে সক্ষম এই সুদর্শন চক্র। আগামী ১০ বছরের মধ্যেই এই সুদর্শন চক্র আসবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মোদিজি।
লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টই বুঝিয়ে দিয়েছেন, অপারেশন সিঁদুরের পর ভারতের প্রতিরক্ষা নিয়ে যথেষ্ট আগ্রাসী তিনি। মোদি জানিয়েছেন, "মিশন সুদর্শন চক্র এমন একটি শক্তিশালী অস্ত্র যা কেবল শত্রুর আক্রমণ করেই থামবে না। বরং শত্রুর উপর বারবার আক্রমণ করবে এবং প্রতিশোধ নেবে।" তিনি আরও জানিয়েছেন, "এই প্রতিরক্ষার এমন ঢাল হতে চলেছে যার জন্য ভারতবর্ষের প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ থাকবেন এবং ভারতকে আক্রমণের জন্য যে ধরণের প্রযুক্তিই ব্যবহার করা হোক না কেন, তাকে প্রতিহত করতে সক্ষম হবে দেশের উন্নত প্রযুক্তি।"
মিশন সুদর্শন চক্র প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও জানান, "ভারতের মিশন সুদর্শন চক্র হবে একটি সম্পূর্ণ আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেটির সম্পর্কিত গবেষণা, উন্নয়ন ও উৎপাদন সম্পূর্ণ ভাবে ভারতেই করা হবে"। এমন একটি ব্যবস্থা করা হবে যাতে ভবিষ্যতের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্লাস-ওয়ান পদ্ধতিতে কৌশলও তৈরি করবে এই আধুনিক অস্ত্র। সুদর্শন চক্রের মতো, ভারতীয় সেনার ক্ষেপণাস্ত্রও লক্ষ্যবস্তুকে নিঁখুত ভাবে যাতে আঘাত করে তেমন আক্রমণের ব্যবস্থাও করবেন তিনি। আশ্বাস নরেন্দ্র মোদির। এরা আগেও অপারেশন সিঁদুর-এর সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর বড় অস্ত্র ছিল এস-৪০০। আগামী দিনেও সেই প্রতিরক্ষাকেই জোরদার করার লক্ষ্যে 'মিশন সুদর্শন চক্র' ঘোষণা করলেন মোদি।
পাকিস্তানের ‘আর্মি রকেট ফোর্স’-এর পালটা এবার মোদির 'মিশন সুদর্শন চক্র'। অপারেশন সিঁদুরের ছেঁকা খেয়ে এবার প্রতিরক্ষায় আরও জোর দিয়েছে পাকিস্তান। বাহিনীতে নতুন একটি সামরিক শাখা তৈরি করছে পাক প্রশাসন, যার নাম রাখা হয়েছে ‘আর্মি রকেট ফোর্স’। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বুধবার ইসলামাবাদে পাকিস্তানের ৭৮ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘আর্মি রকেট ফোর্স’-এর কথা জানিয়েছেন। পরদিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বুঝিয়ে দিলেন ভারতও প্রস্তুত। স্বাধীনতা দিবসের শুভ দিনেই দেশের প্রতিরক্ষায় আধুনিক অস্ত্র 'মিশন সুদর্শন চক্র'-এর কথা ঘোষণা করে পাকিস্তানের মতো শত্রু দেশকে কড়া বার্তা দিলেন নমো।
