একটা সময় ছিল, যখন কলকাতার গঙ্গা পেরিয়ে ইলিশের (Hilsa Fish) ঝাঁক গিয়ে উঠত উত্তরপ্রদেশের (Uttarpradesh) গঙ্গায়। ইতিহাসের পাতায় সে তথ্য নথিভুক্ত থাকলেও, তবে বর্তমান সময়ে কলকাতার গঙ্গাতেই দুর্লভ রুপোলি শস্য। তবে এবার সে ধারায় শুধু পরিবর্তন নয়, বলা যেতে পারে মিরাকেল ঘটল। দীর্ঘ কয়েক দশক পর উত্তরপ্রদেশের গাজীপুরের গঙ্গায় ধীবরের জালে উঠল মাছের রাজা ইলিশ!
জানা যাচ্ছে, গত সপ্তাহের গোড়ার দিকে গাজীপুরের গঙ্গায় দু’টি ‘রুপোলি শস্য’ মিলেছে। যার মোট ওজন ৭৪০ গ্রাম। সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আধিকারিরাই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তাঁদেরই একজন জানিয়েছেন, ‘‘শনিবার আরও কয়েকটি ইলিশ স্থানীয় জেলেরা দেখেছে বলে খবর। গঙ্গার কোল-ঘেঁষা দু’টি গ্রামে মাছ দেখা গিয়েছে। কিন্তু জেলা সদর দপ্তর থেকে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি।’’ এই ঘটনা বেনজির বলে মনে করছেন মৎস্যবিজ্ঞানীরা।
একটা সময়ে গঙ্গার ইলিশ কানপুর ও আগ্রা পর্যন্ত পৌঁছত। গঙ্গার দীর্ঘ উজানপথই ছিল তার স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র। ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালু হওয়ার পর সেই ছবিতে বদল আসে।
ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, একটা সময়ে গঙ্গার ইলিশ কানপুর ও আগ্রা পর্যন্ত পৌঁছত। গঙ্গার দীর্ঘ উজানপথই ছিল তার স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র। ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালু হওয়ার পর সেই ছবিতে বদল আসে। উত্তরপ্রদেশে, যেখানে মূলত গঙ্গার উচ্চ এবং মধ্য প্রবাহ বয়েছে সেখানে পরিযায়ী পথ ও প্রজনন চক্র ব্যাহত হওয়ায় অমিল হয়ে যায় ইলিশ। একাধিক কারণে মাছের প্রজনন যেমন ব্যাহত হয়েছে, তেমনই গঙ্গা নদীর নিম্ন প্রবাহ থেকে উচ্চ প্রবাহে মাছের ঝাঁকে, ঝাঁকে ভেসে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেনি। আর তাই বছরের পর বছর ধরে যোগীরাজ্যে গঙ্গায় ইলিশ, ধীবরদের জাল-বন্দি হয়নি। কিন্তু সেই খরা সম্প্রতি কেটেছে বলেই খবর।
উত্তরপ্রদেশের গঙ্গায় ইলিশ পাওয়ার যাওয়ার খবরে নিশ্চিতভাবেই মৎস্যবিজ্ঞানীদের জন্য আনন্দের। তাঁদের মতে, ইলিশ মূলত বেশি অক্সিজেনযুক্ত ও পরিষ্কার জলে বাঁচে। ফলে উত্তরপ্রদেশের গঙ্গায় রুপোলি শস্যের ফিরে আসা গঙ্গা নদীর বাস্তুতন্ত্র ও জলপ্রবাহে অনুকূল পরিবেশ ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
