মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বলি হচ্ছে ভারতীয়রাও। ওমান উপসাগরে বাণিজ্যতরীতে হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকদের দ্বারা পরিচালিত বাণিজ্যতরীতে হামলার ঘটনাকে বুধবার তীব্র নিন্দা করল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে এই ধরনের হামলার ঘটনাকে 'গভীরভাবে উদ্বেগজনক' বলা হয়েছে।
বুধবার ওমান উপসাগরে পালাউয়ের পতাকাবাহী এমটি সেট্টেবেল্লো নামে একটি বাণিজ্যতরী মার্কিন সেনার হামলার মুখে পড়ে। তাতেই মৃত্যু হয়েছে তিন ভারতীয়র। বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "গত কয়েকদিনে পশ্চিম এশিয়ায় ভারতীয় নাবিকদের নিয়ে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আমাদের নাবিকদের কল্যাণ ও মঙ্গলকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিই আমরা। এই বিষয়টিতে নতুন করে নজর দেওয়ার প্রয়োজন নেই।"
রণধীর আরও বলেন, "গতকালই ওমান উপকূলের অদূরে একটি জাহাজে হামলার তীব্র নিন্দা করেছিলাম আমরা, যাতে দুর্ভাগ্যবশত তিনজন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। জোরালো প্রতিবাদ জানানোর জন্য আমরা ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার দূতকে তলব করেছিলাম। এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের উপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।" যোগ করেন, আমরা বারবার আলোচনা এবং কূটনীতিরর উপর জোর দিয়েছি। যাতে এই অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্যে) দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়।"
বুধবার ওমান উপসাগরে পালাউয়ের পতাকাবাহী এমটি সেট্টেবেল্লো নামে একটি বাণিজ্যতরী হামলার মুখে পড়ে। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ভারতীয় নাবিক থাকা কোনও জাহাজে আক্রমণ করে মার্কিন সেনা। অভিযোগ, বাণিজ্যতরীটিতে আছড়ে পড়ে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র। সঙ্গে সঙ্গে আগুন লেগে যায়। জাহাজটিতে মোট ২৮ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন ভারতীয়। হামলার পরই জাহাজ থেকে আপৎকালীন বার্তা পাঠানো হয়। উদ্ধার করা হয় ২১ জন ভারতীয়কে। কিন্তু সেই থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিন ভারতীয় নাবিক। কিন্তু এবার জানা গেল, তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত সোমবার এমটি মারিভেক্স নামে মাদাগাস্কারের পতাকাবাহী একটি জাহাজেও হামলা চালায় মার্কিন সেনা। সেখানেও ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। কিন্তু সৌভাগ্যবশত তাঁদের কোনও ক্ষতি হয়নি।
কিন্তু কেন বাণিজ্যতরীগুলিতে হামলা চালানো হল? মুখ খুলেছে আমেরিকা। মার্কিন সেনার তরফে জানানো হয়েছে, তাদের নির্দেশ অমান্য করে জাহাজগুলি ইরানের বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। সেই কারণেই তাদের উপর হামলা চালানো হয়েছে।
