ইন্ডিয়া জোট ছাড়ার পর কেন্দ্রের প্রস্তাবিত আসন পুনর্বিন্যাস বিলে সমর্থন করবে ডিএমকে। মাসদুয়েক ধরে জাতীয় রাজনীতিতে এমনটাই জল্পনা ছিল। কিন্তু এবার এম কে স্ট্যালিন সাফ জানিয়ে দিলেন, কোনওদিনই আসন পুনর্বিন্যাস বিলে সমর্থন করার কথা ভাবেননি তাঁরা। বরাবরই তাঁরা এই বিলের বিরোধী। স্ট্যালিনের দল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী দিনেও এই বিলের বিরোধিতাই করবে ডিএমকে।
তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের পরই ইন্ডিয়া জোট ত্যাগ করেছে স্ট্যালিনের দল। তবে তাঁরা ইন্ডিয়া জোটে যেমন নেই, তেমনই সব ইস্যুতে বিজেপির পাশেও নেই। সূত্র মারফত খবর ছড়িয়েছিল, এই সময়ে ডিএমকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিজেপি। আসন পুনর্বিন্যাস বিলে সমর্থন চাওয়া হয়েছে বলেও শোনা যায়। কিন্তু প্রকাশ্যে এই নিয়ে কেউই কিছু বলেননি। এই প্রথমবার বিল নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ডিএমকে। তামিলনাড়ুর প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তথা স্ট্যালিনপুত্র উদয়নিধি বলেন, "এটা তো কোনও নতুন ব্যাপার নয়। ডিএমকে বরাবরই আসন পুনর্বিন্যাসের বিরুদ্ধে। আগামী দিনেও তাই করব।" তাঁর তোপ, কেন্দ্র বিষয়টিকে এমনভাবে তুলে ধরছে যাতে মনে হয় ডিএমকে বিলকে সমর্থন করছে।
উল্লেখ্য, ডিএমকে চায় সংসদের বর্তমান যে আসন সংখ্যা সেই আসনেই কার্যকর হোক মহিলা সংরক্ষণ আইন। কিন্তু সরকার যদি আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করাতে চায়, তাহলে শর্ত মানতে হবে। বিলের কপি না দেখা পর্যন্ত সমর্থনের প্রশ্ন নেই। একইসঙ্গে তাদের অবস্থান, যদি বিলে কোনওভাবেই দক্ষিণের রাজ্যগুলির স্বার্থ লঙ্ঘিত হয়, তাহলে সমর্থনের কোনও প্রশ্নই নেই। বিল নিয়ে হাজারো আলোচনার মাঝেই রাজ্যের সব সাংসদকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। তার মধ্যেই আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে বড়সড় মন্তব্য স্ট্যালিনপুত্রের।
ডিএমকের এই অবস্থান কেন্দ্রের মোদি সরকারের জন্য ধাক্কা হতে পারে। কারণ মোদি-শাহরা যে অঙ্কে আসন পুনর্বনিন্যাস আইন পাশ করাতে চাইছেন, সেই অঙ্কে ডিএমকের সমর্থন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশের জন্য প্রয়োজন সংবিধান সংশোধনী। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় কাজ হবে না, চাই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন। ইতিমধ্যেই একবার ব্যর্থ হয়েছে এই বিল পাশের প্রচেষ্টা। আবারও সেটা হোক, মোটেই চাইছে না মোদি সরকার। কিন্তু ডিএমকের সমর্থন মিলবে না এই বিলে, এমনটা ধরে নেওয়াই যায়।
