দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকলেও ইরান যুদ্ধে সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারত। যুদ্ধ যদি আরও বেশিদিন গড়ায় তাহলে ভয়ংকরভাবে এর প্রভাব পড়বে দেশে। সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই বিপদঘণ্টা বাজালেন গুপ্তচর সংস্থা 'র' (RAW)-এর প্রাক্তন প্রধান বিক্রম সুদ। শুধু তাই নয়, ইজরায়েল বন্ধু হলেও ইরানের প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে জানালেন তিনি।
ইরান যুদ্ধ ভারতের জন্য কতখানি বিপজ্জনক তা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বিক্রম সুদ বলেন, "বিপদ আগামী ২-৩ মাসের মধ্যেই আসবে। এই সময়ের মধ্যে দেশের জ্বালানি তেল ও সার শেষ হয়ে যাবে। আমাদের চাহিদার বেশিরভাগ এলএনজি কাতার থেকে আসে। জ্বালানি তেলের বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। যদি তা বন্ধ হয় বা অধিক মূল্যে কিনতে হয় তবে দেশে মূল্যবৃদ্ধি আকাশ ছোঁবে। যা সরকারের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।"
বিক্রম সুদ বলেন, 'বিপদ আগামী ২-৩ মাসের মধ্যেই আসবে। এই সময়ের মধ্যে দেশের জ্বালানি তেল ও সার শেষ হয়ে যাবে।'
আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরান তিন দেশই ভারতের বন্ধু। ফলে এই যুদ্ধ ভারতের বিদেশনীতির উপর চাপ বাড়াচ্ছে তা স্বীকার করেই ইজরায়েল ও আমেরিকা প্রসঙ্গে সুদ বলেন, "ইজরায়েল আমাদের বন্ধু। দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানাবিধ সামগ্রী আমরা ওখান থেকে কিনি। তারপরও ইরানে হামলা ও সেখানকার সুপ্রিম লিডারকে হত্যা খুনেরই সামিল। একটি দেশের আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া। এরপর আমেরিকার সামিল হওয়া আরও খারাপ পদক্ষেপ। তবে আমাদের বৈদেশিক নীতি অনুযায়ী, আমরা কখনই বলতে পারি না, ইজরায়েল আমাদের বন্ধু নয়। আমরা বলব, এই হত্যা দুর্ভাগ্যজনক। এটা এড়ানো যেত। এছাড়া আমরা আর কোনও অবস্থান নিতে পারি না। আমরা হরমুজের উপর নির্ভরশীল, ইরানের উপর নয়। আমাদের উপর এই যুদ্ধ কোনও আলাদা দেশ চাপিয়ে দেয়নি। কিন্তু পরিস্থিতি চাপিয়ে দিয়েছে।
পাশাপাশি ইরানের প্রশংসা করে সুদের দাবি, আমেরিকা ও ইজরায়েল শুরু থেকেই ইরানকে ভুল বুঝেছে। তিনি বলেন, "প্রথম দিন থেকেই ইজরায়েল ও আমেরিকা ইরানকে ভুল বুঝেছে। ওদের হামলার পালটা জবাব দিয়েছে ইরান এবং তারা ঠিকই করছে। কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, এই যুদ্ধ আসলে ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ইজরায়েলের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র। তবে আসল খেলাটা কী, তা কেবল সময়ই বলবে।"
