যতদূর চোখ যাচ্ছে, শুধুই জল আর জল। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট সব জলের তলায়। পূর্ব অসমের শিবসাগর জেলায় ভয়াবহ বন্যা (Flood) পরিস্থিতি। বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত জলবন্দি। পূর্ব অসমের জোরহাট, চরাইদেও ও মধ্য আসামের (Assam) পাহাড়ি জেলা কার্বি আংলং ভয়াবহ বন্যার কবলে বহু মানুষ। অসমের প্রশাসন সূত্রে খবর, শুধু মঙ্গলবারই ২১ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বানভাসি এলাকা থেকে। কয়েক লক্ষ পরিবার এখনও জলবন্দি। তাঁদের উদ্ধার করতে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে ওই এলাকার পরিস্থিতি। সংশ্লিষ্ট এলাকার রাস্তাঘাট জলমগ্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কার্যত বিঘ্নিত হচ্ছে উদ্ধারকাজ।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, নাগাল্যান্ডে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে শিবসাগর, চরাইদেও ও জোরহাটের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। গত ৫০ বছরেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে জলস্তর।
বন্যা কবলিত এলাকায় আটকে থাকা বাসিন্দাদের উদ্ধার নিয়ে উদ্বিগ্ন অসম সরকার। এই পরিস্থিতিকে 'অভাবনীয়' বলে উল্লেখ করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, নাগাল্যান্ডে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে শিবসাগর, চরাইদেও ও জোরহাটের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। গত ৫০ বছরেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে জলস্তর। অসম প্রশাসন জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্রের দুটি শাখা দিখৌ ও দেশংয়ের জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ায় জলবন্দি হয়ে পড়েছে জেলাগুলি। সেখানকার ছোট ছোট শহর, যেমন - আমগুড়ি, টিওক, তিতাবড় আগে কখনও বন্যার কবলে পড়েনি বলেও উল্লেখ করেছেন স্থানীয় মানুষ ও প্রশাসনিক কর্তারা।
অসম দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৬ জেলায় অন্তত সাড়ে ৫ লক্ষের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বন্যায়। ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় দেওয়া গেলেও এখনও আটকে বহু বাসিন্দা। ৫০০-র বেশি মানুষকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। হেলিকপ্টার ও ড্রোনের সাহায্যে দুর্গতদের খাবার-ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে সরকারের তরফে।
