সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অঝোরে কাঁদছে একরত্তি মেয়েটি। কিছুতেই তাকে যেন শান্ত করানো যাচ্ছে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক প্রোফাইল থেকে আর এক প্রোফাইলে ঘুরছে ছবিটি। ঘুরছে একটি ভিডিও। কিন্তু কেন কাঁদছে মেয়েটি? উত্তরে উঠে আসছে এক হৃদয়বিদারক কাহিনি।
[ অপারেশন থিয়েটারেই চিকিৎসকদের বচসা, মৃত্যু সদ্যোজাতর ]
ছোট্ট এই মেয়টির নাম জোহরা। জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত পুলিশ অফিসার আবদুল রশিদ পিরের কন্যা সে। ছোট্ট মেয়েটির যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে তার পরনে স্কুল ইউনিফর্ম। হাতে মেহেন্দি। দিদির বিয়ের জন্যই সেজেছিল। কিন্তু সে সবই ভেসে গেল চোখের জলে। আচমকাই একদিন শুনল, বাবা আর ফিরবে না। অথচ সে তার বাবার কাছে যেতে চায়। বাবা যে আর ইহলোকে নেই, এ সত্যি যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না অবুঝ মন। বাস্তব যে বড়ই কঠিন! আর তাই তার হাউহাউ কান্নাতেও আর ফিরবেন না শহিদ আবদুল রশিদ। ইতিমধ্যেই জোহরার এ ছবি চোখে জল এনেছে দেশবাসীর। সন্ত্রাস-হিংসায় উত্তপ্ত কাশ্মীর। প্রতিদিনই শহিদ হচ্ছেন সেনা ও পুলিশকর্মী। এটুকুই খবর। তবু খবরের বাইরেও থেকে যায় অনেক কিছু। যেমন এই মেয়েটির কান্না। হাহাকার-আর্তনাদ।
[ লালফৌজের জন্য ডোকলামে চক্রব্যূহ তৈরি করেছিলেন সেনাপ্রধান রাওয়াত! ]
ছোট্ট মেয়েটির কান্নায় যন্ত্রণাবিদ্ধ পুলিশকর্মীরাও। কাশ্মীর পুলিশের এক বর্ষীয়ান অফিসার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, জোহরার কান্না তাঁকেও নাড়িয়ে দিয়েছে। জোহরা হয়তো এখন বুঝবেই না কোন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শহিদ হতে হল তার বাবাকে। দক্ষিণ কাশ্মীরের ডিআইজি-ও এ ছবি দেখে স্থির থাকতে পারেননি। লিখেছেন, জোহরার চোখের জল তাঁকেও বিচলিত করেছে। ভগবান যেন তবু লক্ষ্যে অবিচল থাকার শক্তি দেন। উর্দি গায়ে চাপিয়ে যে দায়িত্ব পালন করেন অফিসাররা তা বয়ে বেড়ানোর শক্তি যেন থাকে। সমাজের ভালর জন্য পুলিশের পদক্ষেপ যেন সফল হয়।
অবশ্য এত যুক্তি ও ভারী কথা বুঝেও উঠতে পারছে না ছোট্ট মেয়েটি। তার শুধু একটাই কথা, বাবার কাছে যাব। তা তো আর হয়ে ওঠার নয়। চোখের জল মুছতেই মুছতেই সে তাই জানাচ্ছে, বাবার জন্য মন কেমন করছে।
এ ছবি দেখে মন খারাপ দেশবাসীরও। কিন্তু সন্ত্রাস-হিংসা থেকে কাশ্মীরের মুক্তি কবে? উত্তরটা জোহরের দীর্ঘশ্বাসের মতো মিলিয়ে যায়।
[ অপারেশন থিয়েটারেই চিকিৎসকদের বচসা, মৃত্যু সদ্যোজাতর ]
The post অঝোরে কাঁদছে একরত্তি মেয়েটি, কেন ভাইরাল এ ছবি? appeared first on Sangbad Pratidin.
