shono
Advertisement
India-Myanmar

ছিটমহলের মতো মায়ানমারের সঙ্গে জমি বিনিময় করছে ভারত! ‘খণ্ডিত’ হওয়ার শঙ্কায় ভুগছে মণিপুর

ভারত-মায়ানমারের মধ্যে ১৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে। এটি অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও মিজোরাম হয়ে মায়ানমারের সাগাইং অঞ্চল ও চিন রাজ্যে প্রবেশ করেছে। এই সীমান্তের বড় একটি অংশই পাহাড়ি এবং জঙ্গলঘেরা।
Published By: Subhodeep MullickPosted: 11:00 AM Aug 06, 2026Updated: 11:15 AM Aug 06, 2026

ছিটমহলের কায়দায় এবার মায়ানমারের সঙ্গে জমি বিনিময় করছে ভারত! একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মণিপুরের চান্দেল জেলার সীমান্তবর্তী প্রায় ১.৪ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে মায়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে কেন্দ্র সরকার। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মণিপুরের এই এলাকাটি ভারত-মায়ানমার সীমান্তের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত একটি অংশ। সূত্রের খবর, সীমানা নির্ধারণের জন্যই দুই দেশ জমি বিনিময় নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।

Advertisement

মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে একটি সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “সীমান্তবর্তী কিছু এলাকা রয়েছে যেগুলির এখনও কোনও সুরাহা হয়নি। ওই সব এলাকা নিয়ে আলোচনা চলছে।” গত মাসে মার্কিন ম্যাগাজিন ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ সরকারি একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছিল, ভারত সরকার মায়ানমারের সঙ্গে মণিপুর সীমান্তে ৬৫ ও ৬৮ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী অঞ্চলের সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রায় ১.৪ বর্গমাইল জমি বিনিময়ের একটি ‘প্রস্তাব’ খতিয়ে দেখছে। ৬৫ ও ৬৮ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় ২.৮ কিলোমিটার। সীমানা নির্ধারণের কাজটি আগস্ট নাগাদ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারত-মায়ানমারের মধ্যে ১৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে। এটি অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও মিজোরাম হয়ে মায়ানমারের সাগাইং অঞ্চল ও চিন রাজ্যে প্রবেশ করেছে। এই সীমান্তের বড় একটি অংশই পাহাড়ি এবং জঙ্গলঘেরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের প্রায় ১৪৭২ কিলোমিটার এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে প্রায় ১৭১ কিলোমিটার এলাকা এখনও অমীমাংসিত। যার মধ্যে প্রধানত অরুণাচল প্রদেশের লোহিত সেক্টর এবং মণিপুরের কাবাউ উপত্যকা অন্তর্ভুক্ত। ২০২৪ সালে ভারত এই ১৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমানায় বেড়া দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। একইসঙ্গে ২০১৮ সাল থেকে চালু থাকা ‘ভারত-মায়ানমার সীমান্ত অবাধ চলাচল ব্যবস্থা’ বাতিল করারও সিদ্ধান্ত নেয়। এই ব্যবস্থার আওতায় দু'দেশের সীমানা-সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী উপজাতীরা ভিসা ছাড়াই ‘বর্ডার পাস’ ব্যবহার করে একে অপরের ভূখণ্ডে ১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারতেন।

তবে এই জমি বিনিময়ের প্রস্তাবটি নিয়ে বিরোধিতা দেখা গিয়েছে মণিপুরে। 'খণ্ডিত' হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছে উত্তর-পূর্বের রাজ্যটি। ‘দ্য ইম্ফল টাইমস’-এর খবর অনুযায়ী, ‘কোঅর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টিগ্রিটি’ নামে সংগঠনটি সরকারকে সতর্ক করেছে যেন রাজ্যের ভূখণ্ডের সামান্য অংশও মায়ানমারকে হস্তান্তর করা না হয়। শুধু তাই নয়, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে তারা আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, মণিপুরের ভৌগোলিক অখণ্ডতা অপরিবর্তনীয়। সংগঠনটির বক্তব্য, ১৯৪৯ সালে ভারতীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তির পর থেকেই মণিপুর তার ঐতিহাসিক ভূখণ্ডের কিছু অংশ হারিয়েছে। তাই রাজ্যের ভৌগোলিক সীমানা ফের কমানো কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার