ভারত সরকার সামাজিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির বাজেট না কমিয়েই ২০২৫-'২৬ অর্থবছরের আর্থিক ঘাটতি জিডিপি-র ৪.৪ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জন করেছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন স্পষ্ট করেছেন যে, পরিকাঠামো খাতের মূলধনী ব্যয় এবং কল্যাণমূলক নীতি অক্ষুণ্ণ রেখেই এই আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ২০৩০-'৩১ সালের মধ্যে দেশের ঋণের পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের ৫০ শতাংশে কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কেন্দ্র।
শিকাগোতে প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে সীতারমন আরও বলেন যে, সরকার ২০২৫-'২৬ সালের মধ্যে তার রাজস্ব ঘাটতির গতিপথের 'শেষ মাইল' শেষ করেছে এবং সামাজিক কল্যাণমূলক ব্যয়ের ক্ষেত্রে আর সংকোচন করা হবে না। অর্থমন্ত্রীর মতে, কোভিড-১৯ মহামারীর সময় সংকট মোকাবিলা করতে এবং অর্থনীতিকে সহায়তা করার জন্য সরকার ঋণ গ্রহণ বাড়িয়েছিল। এরপর থেকে ভারত আর্থিক সংহতকরণের পথ অনুসরণ করছে এবং এখন ২০৩০ সালের মধ্যে ঋণকে জিডিপি-র ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তিনি এই রাজস্ব কৌশলকে ভারতের বৃহত্তর অর্থনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ক্রেডিট রেটিং উন্নত করা, সমাজকল্যাণমূলক ব্যয় বজায় রাখা এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া। নির্মলা বলেন, "আমাদের ক্রেডিট রেটিং উন্নত হচ্ছে। কিন্তু তা কোনও কিছুতে ছাড় দিয়ে হচ্ছে না। সমাজকল্যাণের জন্য বরাদ্দ সম্পদ বন্ধ করেও হচ্ছে না। এটি সম্ভব হয়েছে অর্থনীতির যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে।"
তাঁর দাবি, সরকার ২০২৫-'২৬ অর্থবছরে ১১.২১ লাখ কোটি টাকা মূলধনী ব্যয় হিসেবে বরাদ্দ করেছে। এই বিনিয়োগ রাস্তাঘাট এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের মতো দীর্ঘস্থায়ী সম্পদ তৈরি করে, যা কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ঘটায়। অর্থনীতি চাঙ্গা হলে কর সংগ্রহ বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেয়। আধার ও ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দুর্নীতি ও সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ হয়েছে। 'সিঙ্গল নোডাল এজেন্সি' এবং 'পাবলিক ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম' ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার তহবিলের অপচয় এবং ব্যাঙ্কে বেকার পড়ে থাকা অর্থের সদ্ব্যবহার করছে। কর ব্যবস্থার সরলীকরণ এবং ডিজিটালাইজেশনের কারণে ভারতে কর আদায়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাজস্ব আয় বৃদ্ধির ফলে সরকার নতুন করে ঋণ না নিয়ে, পুরনো ঋণের সুদ মেটাতে এবং ঋণ কমাতে নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করতে পারছে।
