৪০ দিন রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে থেমেছে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধ। বুধবার ভোরবেলায় যুদ্ধবিরতিতে (Iran-US ceasefire) রাজি হয়েছে দু'পক্ষ। সেই সংঘর্ষবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে এবার মুখ খুলল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের তরফ থেকে বিবৃতি জারি করে বলা হয়, ভারত সবসময়েই সংঘাত থামিয়ে শান্তিমূলক আলোচনায় বিশ্বাসী। আশা করা যায় সংঘর্ষবিরতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
ভারতীয় সময় অনুযায়ী, বুধবার ভোরে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী দু’সপ্তাহ আমেরিকা ইরানে কোনও রকম সামরিক অভিযান চালাবে না। অন্যদিকে, শর্তসাপেক্ষে হরমুজ মুক্ত করবে ইরান। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রথমবার মুখ খুলে নয়াদিল্লি বিবৃতি জারি করেছে। বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়, 'সংঘর্ষবিরতিকে স্বাগত জানাই। আশা করি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ফিরবে। আমরা আগেও বহুবার বলেছি, যুদ্ধ থামিয়ে কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই সংঘাত শেষ করা হোক।'
অন্তত ২০টি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে বলে শোনা গিয়েছিল দিনকয়েক আগে। সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ ফুরনোর আগে সেগুলি ভারতে ফিরতে পারবে তো?
ইরান যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে ভারতের উপরে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে ভারতের তেল এবং গ্যাস আমদানিতে টান পড়েছে। দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটও দেখা দিয়েছে। সংঘর্ষবিরতির পর হরমুজে যেন স্বাভাবিকভাবে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করতে পারে, আশা করছে ভারত। বিবৃতিতে বলা হয়, 'এই যুদ্ধে বহু মানুষকে ভুগতে হয়েছে। গোটা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য সমস্ত কিছুই ভেঙে পড়েছে। আশা করি এবার নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচল করতে পারবে, হরমুজে স্বাভাবিক ভাবে বাণিজ্য চলবে।' বিবৃতিতে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখতে ভারত বদ্ধপরিকর।
যুদ্ধ থামতেই ইরানের ভারতীয় দূতাবাসের তরফ থেকে জারি করা হয়েছে বিশেষ নির্দেশিকা। সেখানে বলা হয়েছে, 'বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ইরানে থাকা সকল ভারতীয় নাগরিকদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যেভাবে হোক আপনারা দ্রুত ইরান ছেড়ে বেরিয়ে যান।' যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আপাতত ১৪ দিন। তারপরে আবারও যুদ্ধের আগুনে পুড়বে না তো মধ্যপ্রাচ্য? অন্তত ২০টি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে বলে শোনা গিয়েছিল দিনকয়েক আগে। সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ ফুরনোর আগে সেগুলি ভারতে ফিরতে পারবে তো?
