দিল্লি থেকে ম্যাঞ্চেস্টার যাওয়ার কথা ছিল ইন্ডিগোর বিমানটির। কিন্তু শেষপর্যন্ত মাঝ আকাশেই 'ইউ টার্ন' নিতে হল বিমানটিকে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হল বলে উড়ান সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ইথিওপিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকেই ফিরতে হয়েছে ওই বিমানকে।
ইন্ডিগোর তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, 'আমাদের উড়ান 6E 033 দিল্লি থেকে ম্যাঞ্চেস্টার যাওয়ার পথে শেষ মুহূর্তে আকাশপথের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে ফিরে এসেছে। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতেই এমন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রেখে চলেছি এবং যাত্রার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছি।' জানা গিয়েছে, যেহেতু অনুমতি মিলছিল না, তাই পরিস্থিতি বিচার করে ফিরে আসাই মনস্থ করে সংস্থা। বিমানটিকে নির্দেশ দেওয়া হয় দিল্লি ফিরে আসতে।
আশঙ্কা সত্যি করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল এবং আমেরিকা। যার জেরে অশান্ত হয়ে ওঠে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে পরিষেবা স্থগিত করেছে এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগো। এবার সেই সংঘাতের জেরে ম্যাঞ্চেস্টার যাওয়াও থমকে গেল ইন্ডিগোর বিমানের।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্কের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধে ইরানে মৃতের সংখ্যা দু’হাজার ছাড়িয়েছে। রাশিয়া, চিন, স্পেন, ভারত-সহ একাধিক দেশ শান্তিপ্রস্তাব দিলেও কোনও পক্ষই যুদ্ধ থেকে সরতে রাজি নয়। তাই সপ্তাহ ডিঙিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সেই যুদ্ধ অব্যাহত। যুদ্ধসংকটের প্রভাব পড়ছে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে।
