সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নিতান্তই নৈতিকতার খাতিরে মানুষের পাশে দাঁড়ানো নাকি ভোটের মুখে অভিনব জনসংযোগের চেষ্টা! কারণ যা-ই হোক, তামিলনাড়ু সিপিএমের ঘোষণায় রীতিমতো আলোড়ন রাজনৈতিক মহলে। তামিলভূমে সিপিএম ঘোষণা করেছে, রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে ভিনজাতে বিয়েতে কোনওরকম বাধা এলে মুশকিল আসান হয়ে দাঁড়াবে পার্টি। ওই ধরনের বিয়ের জন্য খুলে দেওয়া হবে পার্টি অফিসের দরজা।
আসলে গত কয়েক বছরে খানিকটা চমকপ্রদভাবে তামিলনাড়ুতে জাতপাতের হানাহানি হু হু করে বাড়ছে। তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলি জেলায় এক বছরে ২৪০টি খুনের ঘটনা ঘটেছে শুধুমাত্র জাতপাতের বিভাজনকে কেন্দ্র করে। কিছুদিন আগে ওই তিরুনেলভেলি জেলায় সিপিএম ভিনজাতের বিয়ের জন্য একটি পার্টি অফিস খুলে দিয়েছিল। নিম্নবর্ণের পাত্রের সঙ্গে উচ্চবর্ণের পাত্রের বিয়ে সম্পন্ন হয় ওই পার্টি অফিসেই। যদিও সেটার জন্য পাত্রীর পরিবারের রোষের মুখে পড়ে সিপিএম নেতৃত্ব। গোটা পার্টি অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে তাতে দমতে নারাজ বামেরা।
তামিলনাড়ু সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক পি সন্মুগমের বক্তব্য, "তিরুনেলভেলিতে আমাদের পার্টি অফিস চুরমার করে দিয়েছিল। কিন্তু আমরা তাতে দমে যাইনি। এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, গোটা রাজ্যে সব পার্টি অফিসে এই ধরনের বিবাহ আমরা সম্পন্ন করব। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটা জরুরি।" পরিসংখ্যান বলছে, তামিলনাড়ুতে জাতপাতের নামে যা খুনোখুনি হচ্ছে তার বেশিরভাগটাই প্রণয়কেন্দ্রিক। তাই এই ধরনের দম্পতির বিয়ে দেওয়াটাকে জনসংযোগের মাধ্যম হিসাবেও দেখা যেতে পারে। উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুতে সিপিএম এবং সিপিআই ডিএমকের নেতৃত্বাধীন শাসকজোটের সদস্য। দুই দলই ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন ভিনজাতে বিয়ে রুখতে কঠোর আইন আনা হোক। আসলে আগামী বছরের ভোটের আগে জাতপাতের বিরুদ্ধে লড়াইকে হাতিয়ার করতে চাইছে সিপিএম।
বাংলাতেও কি এই ধরনের কোনও পদক্ষেপ করা হবে? বঙ্গ সিপিএমের বক্তব্য, এ রাজ্যে ভিনজাতের বিয়ে এখনও অতবড় সমস্যার নয়। ভিনধর্মের বিয়েতে অবশ্য আপত্তি আসে। এই ধরনের যে কোনও বিষয়ে দলের পার্টি অফিস খোলা যেতেই পারে। তাছাড়া দলের হোলটাইমাররা রয়েছেন। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলছেন, "বিয়ে সামাজিক বিষয়। আর পার্টি অফিসে মানুষের জন্যই কাজ হয়। ফলে আমাদের পার্টি অফিসে বিয়ে হতেই পারে।"
