মার্কিন হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগে ভারতের কাছে সাহায্য চেয়ে বার্তা পাঠিয়েছিল ইরানের যুদ্ধজাহাজ। আইআরআইএস ডেনার সেই বিপদ সংকেত পেয়ে ভারতীয় নৌসেনার তরফ থেকেও সাহায্য পাঠানো হয়েছিল। জাহাজ ধ্বংসের ঘটনায় এবার বিস্ফোরক বিবৃতি দিল ভারতীয় নৌসেনা। প্রশ্ন উঠছে, এই জাহাজডুবির ঘটনার পরেই কেন মুখ খুলল না নৌসেনা? ২৪ ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পর কেন বিবৃতি এল নৌসেনার তরফে?
নৌসেনার তরফে বলা হয়, বুধবার ভোররাতে আইআরআইএস ডেনা বিপদ সংকেত পাঠায় কলম্বোর মেরিটাইম রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টারে। সেসময় জাহাজটি ছিল গল থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে, অর্থাৎ শ্রীলঙ্কার অধীনে। বিপদ সংকেত পেয়েই উদ্ধারকাজে শামিল হয়েছে ভারতীয় নৌসেনা। জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ নৌসেনার তরফ থেকে নজরদারি বিমান পাঠানো হয়। ততক্ষণে উদ্ধারকাজ শুরু করে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। আরও একটি বিমান মোতায়েন রাখে ভারতীয় নৌসেনা, সেই বিমানে ছিল সাহায্যকারী ভেলাও।
নৌসেনার আইএনএস তরঙ্গিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল উদ্ধারকাজের জন্য, এমনটাই জানা গিয়েছে। বুধবার বিকেল চারটের সময় তারা রওনা দেবে বলে স্থির ছিল। অন্যদিকে, কোচি থেকে ঘটনাস্থলে যায় আইএনএস ইকশাক। নিখোঁজদের তল্লাশিতে এখনও কাজ করছে ওই জাহাজ। শ্রীলঙ্কার নৌসেনা কর্তাদের সঙ্গে ভারতীয় নৌসেনার কর্তারা যোগাযোগ রাখছেন বলেই জানিয়েছে বাহিনী। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, নৌসেনার এই বিবৃতি এত দেরিতে এল কেন? বুধবার বিকেল থেকেই ইরানের জাহাজ ধ্বংসের খবর ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে। ভারত মহাসাগরে এহেন ঘটনা নিয়ে কূটনৈতিক স্তরে চলেছে ব্যাপক চাপানউতোর। তাতেও কেন মুখ খোলেনি নৌসেনা?
উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে মহড়া করতে অতিথি হয়ে এসেছিল ইরানের যুদ্ধজাহাজ। সেই বিষয়টি উল্লেখ করে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নিজের এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, 'ভারতীয় নৌসেনার অতিথি আইআরআইএনএস ডেনা ধ্বংস করে দিয়েছে আমেরিকা। আন্তর্জাতিক জলসীমায় আগাম কোনও সতর্কতা ছাড়াই এই হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন।’ এই ঘটনাটিকে তিনি ‘সমুদ্রে নৃশংসতা’ বলে অভিহিত করেছেন। এই বিবৃতির পরেই আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের হত্যায় শোকপ্রকাশ করেছে ভারত। কথা বলেছে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গেও।
