ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে পুলিশের হিংসা। নির্বিচারে লাঠিচার্জ, জলকামান, কাঁদানে গ্যাস চালানো হয়েছে প্রতিবাদী পড়ুয়াদের উপর। ঝাড়খণ্ড পুলিশের মারে শতাধিক পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। এহেন দমনপীড়নের প্রতিবাদে সরব হল ঝাড়খণ্ড বিজেপি। মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে বন্ধ ডেকেছে তারা। দলের তরফে বলা হয়েছে, সোমবার প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কারণে অন্যায়ের শিকার হয়েছে পড়ুয়ারা। তার প্রতিবাদেই রাজ্যজুড়ে বন্ধের ডাক।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষায় ভূরি ভূরি অনিয়মের অভিযোগে উঠেছে। এই ঘটনায় ফুঁসে উঠেছেন হাজার হাজার পরীক্ষার্থী। হেমন্ত সোরেন সরকারের বিরুদ্ধে দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে প্রতিবাদ করছেন তাঁরা। অনশনে বসেছেন, সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকও করেছেন। কিন্তু সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার সোমবার পথে নামতে ব্যর্থ হয় ছাত্রসমাজ। বিধানসভা ঘেরাও অভিযানে নামেন হাজার হাজার পড়ুয়া। সেই মিছিল দমন করতে নির্বিচারে লাঠি চালায় পুলিশ।
ইন্ডিয়া জোটের শরিক হয়েও হেমন্ত সোরেন সরকারের এই লাঠিচার্জের নিন্দা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সাফ বলেছেন, পড়ুয়াদের উপর এইভাবে বলপ্রয়োগ ঠিক নয়। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের অধিকার আছে পড়ুয়াদের। আহত পড়ুয়ারা বলছেন, কোনওরকম সতর্কবার্তা ছাড়াই প্রতিবাদীদের উপর লাঠি চালাতে শুরু করে পুলিশ। বিধানসভা এলাকায় পৌঁছতেই মুহুর্মুহু লাঠির আঘাত এসে পড়ে প্রতিবাদী পড়ুয়াদের উপর। অন্তত ১০০ জন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে খবর।
আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে সুর চড়িয়েছে ঝাড়খণ্ড বিজেপি। রাজ্য সভাপতি আদিত্য সাহু বলেন, "চাকরি বিক্রি করা হচ্ছে। আমাদের সন্তানদের উপর অন্যায় অত্যাচার চলছে। বর্বরের মতো আমাদের সন্তানদের উপর লাঠি চলেছে। প্রতিবাদী পড়ুয়ারা আমাদের সন্তান। তাই ওদের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপি কর্মীরা পথে নামবে।" রাজ্যজুড়ে বন্ধের ঘোষণা করে আদিত্যর হুঁশিয়ারি, গোটা ঝাড়খণ্ড স্তব্ধ করে দেবেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, সরকারের কাছে আন্দোলনকারীরা মূলত ৩টি দাবি জানিয়েছে। প্রথমত, সিবিআই- ইডিকে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত। দ্বিতীয়ত, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা না আসা পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিল রাখতে হবে। তৃতীয়ত, গোটা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে যোগ্য প্রার্থীদের বিচার দিতে হবে। বারবার বৈঠক করেও পড়ুয়াদের এই দাবি মানেনি সরকার।
