shono
Advertisement
Jharkhand Rajya Sabha Polls

বাম বিধায়কদের ভোটে জয় বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীর! কংগ্রেসের হারে অশান্তি INDIA জোটে

কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। প্রদেশ নেতাদের কথায়, হাইকম্যান্ড শরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের কাজটা সঠিকভাবে করেনি বলেই এই সমস্যা। 
Published By: Subhajit MandalPosted: 09:43 AM Jun 19, 2026Updated: 09:43 AM Jun 19, 2026

অনুমান ছিলই। তা সত্যি প্রমাণ করে রাজ্যসভা ভোটে ক্রস ভোটিং হল ঝাড়খণ্ডে। রাজ্য থেকে দুটি রাজ্যসভা আসনের নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন তিনজন। একটি আসনে ক্রস ভোটিংয়ের জেরে কংগ্রেস প্রার্থী প্রণব ঝা-কে হারিয়ে নির্বাচিত হলেন এনডিএ সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানি। ঝা পেয়েছেন ২০টি ভোট। নাথওয়ানি ২৮টি ভোট। বাকি আসনে নির্বাচিত হয়েছেন শাসক ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার প্রার্থী বৈদ্যনাথ রাম। তিনি ৩০টি ভোট পেয়েছেন। বিজেপির দুটি, কংগ্রেসের একটি--মোট ৩টি ভোট নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনী আধিকারিক।

Advertisement

কংগ্রেসের অন্দরের ধারণা, কয়েক মাসে আগে বিহারে রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেস বিধায়করা অনুপস্থিত থাকায় জিততে পারেনি আরজেডি। সেটার বদলা নিতেই ঝাড়খণ্ডে ক্রস ভোট করেছে আরজেডি। কিন্তু অতি বাম দল লিবারেশন বিধায়করা কেন ক্রস ভোট করলেন, কোনও যুক্তি খুঁজে পাচ্ছে না কংগ্রেসও।

ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় এনডিএর বিধায়ক ২৪ জন। জেএমএম, কংগ্রেস-সহ শাসক ইন্ডিয়া শিবিরের সংসদের বিধায়ক সংখ্যা ৫৬। উচ্চকক্ষে জায়গা পেতে ৮১ সদস্যের বিধানসভায় ২৮টি প্রথম পছন্দের ভোট প্রয়োজন। হিসাবমতো বিজেপির ঝুলিতে চারটি আসন কম ছিল। কিন্তু শাসক শিবির থেকে ক্রস ভোটিংয়ের সাহায্যে বিজেপি-এনডিএ সমর্থিত নির্দল প্রার্থী জয় ছিনিয়ে নেন।

কংগ্রেসের আশঙ্কা, ঝাড়খণ্ডের শাসক জোটের অংশ আরজেডি এবং লিবারেশনের বিধায়করা কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দেননি। তাদের ভোট গিয়েছে বিজেপির দখলে। আরজেডির চার এবং সিপিআইএম লিবারেশনের দুই বিধায়কই সম্ভবত ভোট দিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীকে। কংগ্রেসের অন্দরের ধারণা, কয়েক মাসে আগে বিহারে রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেস বিধায়করা অনুপস্থিত থাকায় জিততে পারেনি আরজেডি। সেটার বদলা নিতেই ঝাড়খণ্ডে ক্রস ভোট করেছে আরজেডি। কিন্তু অতি বাম দল লিবারেশন বিধায়করা কেন ক্রস ভোট করলেন, কোনও যুক্তি খুঁজে পাচ্ছে না কংগ্রেসও। এদিকে হেমন্ত সোরেনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে জোটের অন্দরে। ভোটের আগে তিনি বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী নাথওয়ানির সঙ্গে দেখা করেন। তাতে বিধায়কদের মধ্যে ভুল বার্তা গিয়েছে বলে ধারণা কংগ্রেসের। সব মিলিয়ে ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের ভূমিকায় চরম অসন্তুষ্ট হাত শিবির। প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা একই সঙ্গে বিঁধছেন হেমন্ত সোরেন এবং লিবারেশন নেতাদের। আবার কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। প্রদেশ নেতাদের কথায়, হাইকম্যান্ড শরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের কাজটা সঠিকভাবে করেনি বলেই এই সমস্যা। 

উল্লেখ্য, নাথওয়ানি চারবার রাজ্যসভা সদস্য হয়ে ইতিহাস গড়লেন। ২০০৮ থেকে ২০২০-র মধ্যে পরপর দুবার তিনি নির্দল এমপি হয়েছিলেন। ২০২০-তে তিনি অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভায় যান। আবার ঝাড়খণ্ডে ফিরলেন। তাঁর কথায়, ঝাড়খণ্ড তাঁর কর্মভূমি। নির্বাচিত হয়ে তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনকে। বৃহস্পতিবার ১০ রাজ্যের ২৪টি রাজ্যসভা আসনে ভোট পূর্বনির্ধারিত ছিল। কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাতে চারটি করে, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশে তিনটি করে, ঝাড়খণ্ডে ২টি, অরুণাচল প্রদেশ, মিজোরাম, মণিপুর, মেঘালয়ে ১টি করে রাজ্যসভা আসনে ভোট হওয়ার কথা ছিল।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement