দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনে এবার ইতি। কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী বদলের জল্পনায় সিলমোহর পড়তে চলেছে। সব ঠিক থাকলে বুধ বা বৃহস্পতিবার ইস্তফা দেবেন সিদ্দারামাইয়া। তাঁর বদলে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হবেন ডি কে শিবকুমার। তবে সিদ্দাকেও হতাশ করতে রাজি নয় কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। তাঁকে রাজ্যসভায় আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী দিনে তাঁকে কেন্দ্রীয় স্তরে বড় দায়িত্ব দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে বলে খবর।
কেরলে দল সদ্য ক্ষমতায় ফিরেছে। কিন্তু পাশের রাজ্য কর্নাটকে অস্বস্তি কাটছেই না কংগ্রেসের। মঙ্গলবার বিবাদমান দুই গোষ্ঠীর নেতাকে দিল্লিতে ডেকে তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে কংগ্রেস। দুই গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক বৈঠক হয়েছে হাইকম্যান্ডের। ৩ দফায় আলাদা আলাদা করে তাঁদের বক্তব্য শোনেন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং কে সি বেণুগোপালরা। আলাদা করে দুই নেতার বক্তব্য শোনেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। পরে প্রিয়াঙ্কা দুই নেতার বক্তব্য নিজের মা তথা কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীও জানান। কংগ্রেসের অন্দরে খবর, প্রিয়াঙ্কা চাইছেন অবিলম্বে কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শিবকুমারকে উন্নীত করা হোক। যাতে ২০২৮ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে দলে বা জনমানসে কোনও সংশয় না থাকে।
প্রিয়াঙ্কার সেই প্রস্তাবে সায় দিয়েছে গোটা হাই কম্যান্ড। সিদ্দারামাইয়াকে সবাই মিলে বুঝিয়েশুনিয়ে ইস্তফা দিতে রাজি করিয়েছেন। তিনি বুধবার বা বৃহস্পতিবার ইস্তফা দিতে পারেন। সবটা মসৃণভাবে হচ্ছে এটা বোঝাতে সিদ্দারামাইয়াকে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে দলে বড় পদ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তিনি দলিত মুখ হওয়ায় সর্বভারতীয় স্তরে কাজে লাগানোর কথা বলা হচ্ছে। তবে সিদ্দা আগামী দিনে দিল্লির রাজনীতিতে আসবেন কিনা সেটা নিয়ে সিদ্ধান্ত এখনও জানাননি।
প্রসঙ্গত, শিবকুমারের অনুগামীরা ২০২৩-এর বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের জয়ের পর স্থির হওয়া ক্ষমতা ভাগাভাগির সূত্র মেনে তাঁর প্রমোশন চাইছেন অনেকদিন ধরে। এবার সেই দাবি পূরণ হতে চলেছে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সুবাদে। তিনিই দলের প্রথম সারির নেতাদের কাছে শিবকুমারের হয়ে দরবার করেছেন বলে খবর।
