ঠিক ছিল, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে সোমবারই আলোচনা হবে লোকসভায়। কিন্তু বিরোধীদের জন্যই সেটা হয়ে উঠল না। ইরান-ইজরায়েল সংঘাত ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি এবং সার্বিকভাবে আলোচনার দাবিতে এদিন গোটা দিন বিক্ষোভ দেখালেন বিরোধীরা। যার জেরে স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে কোনওরকম আলোচনা সোমবার হল না।
এমনিতে অনাস্থা প্রস্তাব আনায় লোকসভার অধিবেশনে থাকছেন না স্পিকার। তাঁর অনুপস্থিতিতে সভার কাজ চালাচ্ছেন প্রবীণ বিজেপি সাংসদ জগদম্বিকা পাল। তিনি সোমবারই ওম বিড়লার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সরকারও আলোচনা চাইছিল। কিন্তু বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের শুরুতেই বিরোধীরা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার দাবিতে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করে দেন। যার জেরে দফায় দফায় মুলতুবি করে দিতে হয় অধিবেশন।
প্রথমে দুপুর ১২টা, তার পর বিকেল ৩টে এবং তার পরদিনের মতো সভা মুলতবি করে দেওয়া হয়। জগদম্বিকা পাল বারবার বিরোধী বেঞ্চকে আলোচনায় অংশ নিতে অনুরোধ করলেও কাজের কাজ হয়নি। বিরোধী শিবিরের সাফ কথা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভারতের অবস্থান এই মুহূর্তে অনেক বেশি জরুরি। তাই এ নিয়ে আলোচনা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে বিবৃতি দিতে হবে। কিন্তু সেই আর্জি না মানায় অধিবেশনে কোনও কাজ হয়নি। এমনকী বিরোধীদেরই আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা পর্যন্ত করা যায়নি।
উল্লেখ্য, পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগে লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস দিয়েছে কংগ্রেস। সেই অনাস্থা প্রস্তাবে ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টির মতো ইন্ডিয়া জোটভুক্ত দলগুলি সই করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, সংবিধানের ৯৪(সি) ধারায় লোকসভার স্পিকারকে অপসারণ সরানো যেতে পারে। সেজন্য ভোটাভুটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হয়। আবার সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, প্রস্তাবের অন্তত ১৪ দিন আগে ওই নোটিস দিতে হয়। সব ঠিক থাকলে সোমবার ওই প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনা করা যেত। সেটা হল না। অবশ্য মঙ্গলবার ফের ওই প্রস্তাবে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
