shono
Advertisement
Lucknow fire

১০ বছর আগেই ভাঙার নির্দেশ ছিল, লখনউয়ের জতুগৃহে ১৫ মৃত্যুর পর প্রকাশ্যে অনিয়মের ছবি

তদন্তের ছত্রে ছত্রে উঠে আসছে অনিয়মের ছবি। সরকারি নথি অনুযায়ী, এটা একসময় ছিল বসতবাড়ি। পরে বেআইনিভাবে তা বাণিজ্যিক ভবনে পরিণত করা হয়।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 10:39 AM Jun 23, 2026Updated: 03:25 PM Jun 23, 2026

লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ড ও ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ। সেই তদন্তের ছত্রে ছত্রে উঠে আসছে অনিয়মের ছবি। সরকারি নথি অনুযায়ী, এটা একসময় ছিল বসতবাড়ি। পরে বেআইনিভাবে তা বাণিজ্যিক ভবনে পরিণত করা হয়। তদন্তে আরও জানা যাচ্ছে, ২০১৬ সালে এই অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ২ মাসের মধ্যেই সেই নির্দেশ বদলে দেওয়া হয়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Advertisement

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বেআইনি ওই ভবনটির মালিক ছিলেন তিনজন। তাঁরা হলেন, বীরেন্দ্রপ্রসাদ শুক্লা, সুরেন্দ্র শুক্লা ও ধীরেন্দ্র শুক্লা। এঁদের মধ্যে পুলিশ বীরেন্দ্রকে গ্রেপ্তার করেছে। দাবি করা হচ্ছে, বাসভবন হিসেবে অনুমোদিত এই ভবনকে ২০১৪ সালে বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে রূপান্তর করা হয়। এরপর ২০১৬ সালে এখানে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। যার জেরে নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ জারি করা হয়। তবে অজ্ঞার কারণে ২ মাসের মধ্যে সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এর আগে ওই ভবনের মালিক ছিলেন এক দম্পতি।

২০১৬ সালে এই অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ২ মাসের মধ্যেই সেই নির্দেশ বদলে দেওয়া হয়।

উত্তরপ্রদেশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০ সালে লটারির মাধ্যমে বাড়িটি বিক্রি করা হয়েছিল। সেই সময় ভবনের মালিক ছিলেন বিজয় কুমার। পরে ২০০৫ সালে বাড়িটির রেজিস্ট্রেশনে তাঁর স্ত্রীকেও যুক্ত করা হয়। ২০১৩ সালে বীরেন্দ্রকে বাড়িটি বিক্রি করেন ওই দম্পতি। ২০১৪ সালে হাতবদলের পরই বাড়িটির চরিত্র পুরোপুরি বদলে ফেলা হয়। বাণিজ্যিক ভবনে পরিণত হওয়ার পর এর অংশে দোকান, পোষ্য প্রাণীর ক্লিনিক এবং উপরের তলায় অ্যানিমেশন ও কোচিং সেন্টার চালানো হচ্ছিল। এদিকে বাড়ির মূল গঠনে কোনও বদল করা হয়নি। গোটা বিল্ডিংয়ের কোথাও ছিল না ফায়ার এক্সিট। ঢোকা বেরোনর জন্য ছিল একটিই রাস্তা। দুর্ঘটনার সময় অনেকে বাইরের দরজা পর্যন্ত পৌঁছতে পারলেও কাজ করেছি অটোমেটিক দরজা। যারা মৃত্যুকূপে আটকে পড়েন অনেকে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি শর্ট সার্কিট থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই দুই সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। ৪ জন সরকারি আধিকারিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ভবনের মালিক-সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অনুমোদন ছাড়া কী ভাবে ভবনটি চালু ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement