দিনের পর দিন ব্যাঙ্কে হত্যে দিয়েও মিলছে না টাকা। বাধ্য হয়ে কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কে হাজির হলেন এক ব্যক্তি! অত্যাশ্চর্য ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার কেওনঝড়ে। জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তির দিদির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২০ হাজার টাকা জমা ছিল। দিদির মৃত্যুর পর তিনি গিয়েছিলেন ওই টাকা তুলতে। কিন্তু ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের লাগাতার 'হয়রানি'র জেরে বিরক্ত হয়েই দিদির কঙ্কাল নিয়ে সটান ব্যাঙ্কে চলে গিয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার। জানা গিয়েছে ওই ব্যক্তির নাম জিতু মুন্ডা। ৫০ বছর বয়সি জিতুর দিদি কালরা মারা গিয়েছেন গত ২৬ জানুয়ারি। তারপর তিনমাস ধরে ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের মালিপোসি শাখায় চক্কর কেটেছেন। ওই ব্যাঙ্কে নিয়মিত টাকা রাখতেন কালরা। স্বামী এবং একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর পরে বাপের বাড়িতেই থাকতেন তিনি। তাই বাপের বাড়ির এলাকাতেই ওই ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন এবং টাকা জমাতেন নিয়মিত। প্রায় ২০ হাজার টাকা ওই অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে। গত জানুয়ারিতে কালরার মৃত্যুর পর থেকে ওই অর্থ তোলার চেষ্টা করেছেন জিতু।
কিন্তু বারবার ব্যাঙ্কে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। জিতু বলছেন, "আমি বহুবার বলেছি, দিদি মারা গিয়েছে। কিন্তু ওরা আমার কোনও কথা শোনেনি। খালি বলেছে, যার নামে অ্যাকাউন্ট তাঁকেই ব্যাঙ্কে আসতে হবে। শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে কবর খুঁড়ে দিদির কঙ্কাল বের করে নিয়ে গিয়েছি।" গোটা ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছে বিজেপিশাসিত ওড়িশায়। মন্ত্রী সুরেশ পূজারী জানিয়েছেন, এমন অমানবিক আচরণের জন্য ব্যাঙ্ককর্তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। শাস্তি দেওয়া হবে দোষীদের।
স্থানীয় সাব কালেক্টর উমা শংকর দালাই জানিয়েছেন, ব্যাঙ্কের নিয়মকানুন সেভাবে জানেন না জিতু। আইনি ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী কে হতে পারেন, সেটা জানা নেই, সম্ভবত সেকারণেই এতটা বিরক্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। গোটা বিষয়টি নিয়ে হইচই হওয়ার পরে কালরার দেহ আবারও কবর দিয়ে দেয় পুলিশ। ব্যাঙ্ককেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জিতুর হাতে অর্থ তুলে দেওয়া হয়। তবে গোটা ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে ব্যাঙ্কের মানবিকতা নিয়ে। কতখানি বিরক্ত হয়ে কবর খুঁড়ে দিদির মৃতদেহ বের করতে বাধ্য হয়েছেন ভাই, কল্পনা করেই রাগ হচ্ছে আমজনতার।
