‘ড্রাগন’-ভীতিতে শনিবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে ‘কোয়াড অস্ত্রে’ শান দিয়েছেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। রবিবার দিল্লিতে তিনি বৈঠক করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে। সেখানে তাঁর বার্তা, ‘ভারত শুধু বন্ধু নয়, দুই দেশ কৌশলগত অংশীদারও।’ কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রুবিওর এই বার্তার নেপথ্যে রয়েছে বিশ্বে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, যা এখন আমেরিকার কাছে উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
এদিন জয়শংকরের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন বিদেশসচিব বলেন, “আমেরিকা-ভারত শুধু বন্ধু নয়। দুই দেশ কৌশলগত অংশীদারও। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করি। কিন্তু কৌশলগত অংশীদারত্ব একটি ভিন্ন বিষয়।” তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বের বড় গণতন্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম। আমাদের এত বেশি অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে যে, তার ওপর ভিত্তি করে আমাদের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে যৌক্তিক।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ চিন সাগর থেকে তাইওয়ান প্রণালী - প্রতিটি ক্ষেত্রেই বেজিংয়ের আগ্রাসী অবস্থান এখন আমেরিকার প্রধান কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। তার উপর ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের নৌ ও সামরিক উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। তাই সিদুঁরে মেঘ দেখছে ওয়াশিংটন। এই পরিস্থিতিতে ভারতকে কাছে টেনে চিনকে বিশেষ বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে আমেরিকা। ওয়াশিংটনের মতে, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের প্রভাব মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হওয়ার পাশাপাশি ভারত এখন দ্রুত উত্থানশীল অর্থনীতি এবং সামরিক শক্তি। অন্যদিকে, ভারত-চিন সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে আমেরিকার কৌশলগত চিন্তাভাবনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
