তৃণমূলত্যাগী ২০ সাংসদের ভবিষ্যৎ কী? তা এখনও স্পষ্ট নয়। ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআইতে যোগ দেওয়ার পর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েকদিন। কিন্তু লোকসভার স্পিকার এখনও তাঁদের আলাদাভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। এরইমধ্যে মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের, জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান ও বহরমপুরের ইউসুফ পাঠানকে ঘিরে শুরু হয়েছে একাধিক জল্পনা। আর এই আবহেই দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে এনসিপিআইয়ের সাংসদরা। বঙ্গভবনে প্রায় দেড়ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এই বৈঠক হয়। যেখানে একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। এমনকী আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং পাঠানের সঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী আলাদাভাবে কথা বলেছেন বলে খবর।
এনসিপিআই সাংসদদের স্বীকৃতির বিষয়টি ঝুলে থাকায় সাংসদদের কেউ কেউ ধৈর্য হারাচ্ছেন! কেউ আবার এনডিএ-র শরিক হয়ে থাকার বদলে স্বাতন্ত্র্য চাইছেন।
বৈঠক শেষে মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার বলেন, ''এনসিপিআই এনডিএকে আগেই সমর্থন করেছে। তিনজন সাংসদের নিজস্ব কিছু সমস্যা ছিল। তাঁরা সমস্ত কিছু মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। পরিষ্কারভাবে কথা হয়েছে। তাঁরা আমাদের সঙ্গেই আছেন।'' এখানে যে কোনও বিতর্ক নেই, তা স্পষ্ট জানিয়ে দেন বাপি হালদার। পাশাপাশি রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে যে বিস্তারিত চর্চা হয়েছে তাও জানান তিনি। বাপি হালদার বলেন, ''উন্নয়নের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে আছেন। আগে যে কথা দিয়েছিলেন, তা নিশ্চিত করেছেন আরও একবার।'' একই সুর শোনা গিয়েছে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেও। তিনি জানান, রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত চর্চা হয়েছে। দারুণ বৈঠক হয়েছে।
এনসিপিআই সাংসদদের স্বীকৃতির বিষয়টি ঝুলে থাকায় সাংসদদের কেউ কেউ ধৈর্য হারাচ্ছেন! কেউ আবার এনডিএ-র শরিক হয়ে থাকার বদলে স্বাতন্ত্র্য চাইছেন। মুর্শিদাবাদের জেলার তিন সাংসদের দাবি তেমনই। আবু তাহেরের কথায়, ‘‘সংসদে মুসলিম স্বার্থ বিরোধী কোনও বিল এলে আমরা প্রতিবাদ করব। উন্নয়ন না হলে আমরা থাকব না।” সেই কারণে তাঁদের মূল লক্ষ্য, পৃথক দলের স্বীকৃতি। এর মাঝে দু'বার এনডিএ-র বৈঠকে গরহাজির এবং সংসদ চত্বরে কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ সৌগত রায়ের সঙ্গে দেখা, গল্পগুজবের ছবিতে অন্য জল্পনা উসকে উঠেছিল। জল্পনা তৈরি হয়, আবু তাহের, খলিলুর রহমান ও ইউসুফ পাঠান কি আবার মমতা শিবিরে ফিরতে চাইছেন? এনিয়ে যদিও কোনও পক্ষ কিছু বলেনি। তবে গুঞ্জন ক্রমশ বাড়তে থাকে। এরইমধ্যে দিল্লি পৌঁছেই এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠক খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
