পাকিস্তানে বসেও রেহাই নেই। পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড তথা লস্কর-ই-তইবা প্রধান হাফিজ সইদকে সমন পাঠাতে চলেছে এনআইএ আদালত। পাকিস্তানে হাফিজের ঠিকানায় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে পাঠানো হবে এই সমন।
পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা সংক্রান্ত মামলায় সম্প্রতি আদালতে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দাখিল করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। সেখানে এই হামলায় অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে হাফিজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পহেলগাঁও হামলার ঘটনায় হাজিফের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় জারি হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। এর প্রেক্ষিতেই এবার পাকিস্তানে হাফিজের ঠিকানায় পাঠানো হচ্ছে আদালতের সমন। যেখানে বিচারের জন্য ভারতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে জঙ্গি হাফিজকে। তবে ভারতের আদালতের তরফে সমন পাঠানো হলেও হাফিজ যে উপস্থিত হবে না তা একপ্রকার নিশ্চিত। সেক্ষেত্রে বিনএসএস-২০২৩ এর ৩৬৫ ধারায় যদি অনুপস্থিত না হয়, 'ট্রায়াল অফ অ্যাবসেনশিয়া' অর্থাৎ অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে হাফিজ সইদের।
পাকিস্তানে হাফিজের ঠিকানায় পাঠানো হচ্ছে আদালতের সমন। যেখানে বিচারের জন্য ভারতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে জঙ্গি হাফিজকে।
পহেলগাঁও হামলার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ১,৫৯৭ পৃষ্ঠার চার্জশিট পেশ করেছে এনআইএ। গত ৬ জুলাই এই হামলার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেখানে পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত বিবরণ, হাফিজ সইদের ভূমিকা-সহ অন্যান্য খুঁটিনাটি তথ্য প্রমাণ যুক্ত করা হয়েছে। তারপরই ঘুম উড়েছে ইসলামাবাদের। এনআইএ-র চার্জশিটকে ‘পরিকল্পিভাবে সাজানো’ বলে আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তান।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নৃশংস হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় ধর্ম চিহ্নিত করে হত্যা করা হয় ২৬ জনকে। এই মামলার তদন্তে নামে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর মামলায় প্রথম চার্জশিট পেশ করেছিল এনআইএ। সেখানে পাক হ্যান্ডেলার সাজিদ জাট, অপারেশন মহাদেবে নিহত তিন সন্ত্রাসী এবং গ্রেপ্তার হওয়া দুই অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করে। একইসঙ্গে লস্কর ও তার শাখা টিআরএফ-এর ভূমিকা, হামলার পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিচালনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
