সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘জয় শ্রীরাম নয়, ভুল কথা বলবেন না। বলুন জয় সিয়ারাম।’ বারাণসীতে দাঁড়িয়ে বিজেপি কর্মীদের শিক্ষা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল বুধবার বারাণসীতে পা দিয়েই বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তৃণমূলনেত্রীকে। তাঁর গাড়িতে ধাক্কা দেওয়া হয়, কালো পতাকা দেখানো হয়, তাঁর উদ্দেশে কটাক্ষ করা হয়। এদিন বারাণসীর সভা থেকে সেইসব বিজেপি কর্মীদের তীব্র কটাক্ষে বিঁধলেন মমতা (Mamata Banerjee)।
তৃণমূল (TMC) নেত্রীর বক্তব্য, “যখনই ভোট আসে, আপনারা মন্দিরের কথা বলেন। হিন্দু-মুসলিম করেন। ‘জয় সিয়ারাম’ স্লোগানে আমার কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু আপনারা কী করেন? সীতামাতার নাম বলেন না। আপনারা শুধু জয় শ্রীরাম বলেন। এটা ঠিক নয়, ঠিক করে বলুন। জয় সিয়ারাম বলুন। আমরা মা দুর্গার পূজা করি। শ্রীরামচন্দ্র যার পূজা করেছিলেন, তার পূজা করি।” মমতার সাফ কথা, “আমাকে ধর্ম শেখাতে আসবেন না। আমার সঙ্গে গুন্ডামি করবেন না যোগীজি।” আজ সভা সেরে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে পুজোও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গতকাল সন্ধেয় তিনি দশাশ্বমেধ ঘাটে গিয়েছিলেন আরতি দেখতে। তখনই যাবতীয় বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।
[আরও পড়ুন: ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব অর্থনীতিতে, পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে LIC’র IPO আনার তারিখ]
এদিন বারাণসীর (Varanasi) সভা থেকে সে প্রসঙ্গে মমতা (Mamata Banerjee) বলেন, “রাস্তায় ক’জন বিজেপি কর্মী, মারামারি-কাটাকাটি ছাড়া যাদের মাথায় কিছু নেই। তারা আমার গাড়ি আটকে দিল। আমার গাড়িতে ধাক্কা মারল। ওরা যখন আমাকে বলল আপনি ফিরে যান, তখনই বুঝে গেলাম, এরা হারছে, এদের হার নিশ্চিত। ওরা যখন আমাকে গালাগাল করছিল আমি গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়িয়ে পড়লাম। বললাম, দেখি ওরা কী করতে পারে। তোমার কী শক্তি আছে আমি দেখতে চাই। তোমার কত সাহস আছে দেখতে চাই। আপনারা যে আমাকে এভাবে গালি দিলেন, আমার গাড়িতে ধাক্কা দিলেন, এর জন্য ধন্যবাদ। কেন? কারণ বিজেপি (BJP) যে হারছে সেটা স্পষ্ট। এভাবে আমাকে ভয় পান আপনারা, আমি বারবার আসব। এত সস্তায় কিছু পাবেন না। খেলা হবে।”
[আরও পড়ুন: ‘পুতিনকে কি যুদ্ধ থামাতে বলব?’ ভারতীয়দের উদ্ধার মামলায় প্রশ্ন দেশের প্রধান বিচারপতির]
উল্লেখ্য, গতকাল মমতাকে কালো পতাকার প্রতিবাদে এদিন এরাজ্যেও একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ দেখানো হয়। এদিন রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে শান্তি পূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভের কর্মসূচি গ্রহণ করে টিএমসিপি (TMCP)। এছাড়া সারা বাংলার জেলাজুড়ে প্রতিটি টাউন, ব্লক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হয়।
