পূর্ব পরিকল্পনামতোই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কলকাতা সফরের সময়েই সংসদে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার তোড়জোড় শুরু করে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের খসড়া তৈরি হয়ে গিয়েছিল আগেই। এবার শুরু হয়ে গিয়েছে সই সংগ্রহের কাজও। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই সংসদে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস-সহ ঐক্যবদ্ধ বিরোধীদের পক্ষ থেকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি সম্বলিত ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের নোটিস জমা দেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
বিরোধী শিবিরের তরফে সম্মিলিতভাবে এই পদক্ষেপ করা হলেও এর নেতৃত্বে যে তৃণমূলই রয়েছে, সে কথা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তৃণমূল সূত্রের খবর, গত সপ্তাহেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী শিবিরের বড় রাজনৈতিক দলগুলির নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন।
সে সময় তাদের প্রত্যেকেই এই ইস্যুতে তৃণমূলের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিল। তবে প্রস্তাবটি লোকসভা না রাজ্যসভা- কোন কক্ষে আনা হবে, তা নিয়ে বিরোধী শিবিরের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ প্রসঙ্গে এক বিরোধী নেতা দাবি করেছেন, প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন তাদের উভয় কক্ষেই রয়েছে। সূত্রের খবর, প্রস্তাবের খসড়ায় জ্ঞানেশের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ সিইসি-র মতো সাংবিধানিক পদের মর্যাদা নষ্ট করছে, এই অভিযোগকেই সামনে রাখা হয়েছে।
তৃণমূলের তৈরি খসড়াটি বাকি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে বলেই দলের তরফে জানা গিয়েছে। এদিন সকালে অধিবেশন শুরুর আগে সংসদ ভবনে কংগ্রেস সভাপতি ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের দপ্তরে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভায় ডেপুটি লিডার শতাব্দী রায়। বৈঠকে শতাব্দী পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী তালিকা সংশোধনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন তথা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে ৬ মার্চ থেকে প্রতিবাদ শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
যদিও নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম নানা কারণ দেখিয়ে সেখান থেকে বাদ রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট তথা অভিশংসন প্রস্তাব আনা উচিত বলেই শতাব্দী জোরালো সওয়াল করেছেন বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। তাতে বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য বিরোধী নেতারাও এই প্রস্তাবে সহমত প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত বছর থেকেই জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার ভাবনা শুরু হয়েছিল তৃণমূলের অন্দরে। পরে এ বছরের চলতি বাজেট অধিবেশনেই যে সেই প্রস্তাব আনা হবে, তা নিশ্চিত করেছিল তারা। সেইমতোই বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের শুরুর দিন থেকেই মাঠে নেমে পড়েছে তৃণমূল। আর তাতে কংগ্রেস, ডিএমকে, সপা-সহ বিরোধীরাও একজোট হয়েছে।
