বিশেষ অধিবেশন ডেকে দু'দিন ধরে আলোচনা ও অনুরোধের পরও বিরোধীদের সমর্থন আদায় করতে পারেনি মোদি সরকার। দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না মেলায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ হয়নি লোকসভায়। এই ঘটনায় বিরোধী শিবিরকে দুষলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্রের খবর, মন্ত্রিসভায় বিরোধী শিবিরকে কার্যত নারী বিদ্বেষী বলে তোপ দেগে মোদি বললেন, "বিরোধীরা ভুল করল, এর ফল ভুগতে হবে।''
সূত্রের খবর, বিলটি সংসদে পাশ না হওয়ায় শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন প্রধানমন্ত্রী। জানান, "বিরোধীরা ভুল করল। এর ফল ওদের ভোগ করতে হবে। দেশের মহিলাদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে ওদের।" শুধু তাই নয়, বিরোধীদের এই কার্যকলাপকে নারীবিরোধী পদক্ষেপ বলে তোপ দেগে মোদি বলেন, "দেশের মহিলাদের আশায় জল ঢেলেছে ওরা। ওদের এই অপকর্ম দেশের প্রতিটি গ্রামে, প্রত্যেকটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। যাতে দেশ এদের স্বরূপ জানতে পারে।"
মোদি বলেন, "দেশের মহিলাদের আশায় জল ঢেলেছে ওরা। ওদের এই অপকর্ম দেশের প্রতিটি গ্রামে, প্রত্যেকটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। যাতে দেশ এদের স্বরূপ জানতে পারে।"
তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি বিল পাশ করাতে উঠেপড়ে লেগেছিল মোদি সরকার। যার প্রথমটি ছিল, লোকসভা ও বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ। এই বিলের নাম ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। দ্বিতীয়টি ছিল, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিল। এবং তৃতীয়টি ছিল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। তবে বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, মহিলা সংরক্ষণের মোড়কে ভারতের ভোট মানচিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে মোদি সরকার। বিলটির বিরোধিতায় একজোট হয় বিরোধী শিবির। ভোটাভুটি চলাকালীন বিলটির পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি। ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছিলেন ৫২৮ জন সাংসদ। বিলটি পাশ করাতে প্রয়োজন ছিল দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন অর্থাৎ ৩৫২টি ভোটের। তা না মেলায় শেষ পর্যন্ত পাশ করানো যায়নি বিলটি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল সংসদে। বিলে উল্লেখিত ছিল, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। সেখানে আরও বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু এখন কেন্দ্র আর জনগণনার অপেক্ষা করছে না। মোদি সরকারের লক্ষ্য ছিল, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করার। সেই পুনর্বিন্যাসের ভিত্তিতেই মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষিত করা। পাশাপাশি বিরোধীদের অভিযোগ, মহিলা সংরক্ষনের আড়ালে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে সরকার। সেটারই বিরোধিতায় একজোট হয় ইন্ডিয়া শিবির। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সালে যে বিল পাশ হয়েছিল তা অবিলম্বে লাগু করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিতে চলেছে বিরোধী শিবির।
