তেল-গ্যাসের ভাণ্ডারে আক্রমণ শানাচ্ছে ইরান (Iran War)। কার্যত বন্ধ করে রেখেছে হরমুজ প্রণালী। ফলে ভারতের শক্তিসম্পদ আমদানি নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে আশঙ্কা। এহেন পরিস্থিতিতে একাধিক দেশের প্রধানদের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বৃহস্পতিবার তিনি কথা বলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে। এছাড়াও ওমানের সুলতান হাইতাম বিন তারিক এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গেও কথা বলেছেন মোদি।
বুধবার রাতে কাতারের প্রাকৃতিক গ্যাসের বৃহত্তম ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র চালায় তেহরান। তার রেশ কাটতে না কাটতেই কাতার এবং সৌদি আরবের তেল শোধনাগারগুলিতে ইরান হামলা চালিয়েছে। এহেন হামলার ফলে শক্তিসম্পদ আমদানি-রপ্তানি নিয়ে বাড়ছে সংশয়। তেল-গ্যাসের ভাঁড়ারে হামলা হলে চাপ বাড়বে ভারতেরও। এহেন পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লিও বরাবরের মতো চাইছে, অবিলম্বে যুদ্ধ থামুক। বৃহস্পতিবার তিন রাষ্ট্রপ্রধানকে ফোন করে সেকথাই বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এক্স হ্যান্ডেলে মোদি লেখেন, 'আমার প্রিয় বন্ধু ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথা হল পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে। সেখানে যত দ্রুত সম্ভব সংঘাত থামানো দরকার। কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে হবে। ওই অঞ্চল-সহ সর্বত্রই শান্তি এবং স্থিতাবস্থা ফেরাতে একযোগে কাজ করবে ভারত এবং ফ্রান্স। উল্লেখ্য, সপ্তাহদুয়েক আগেও ম্যাক্রোঁকে ফোন করেছিলেন মোদি। প্রথম থেকেই যুদ্ধ নিয়ে ভারত এবং ফ্রান্সের অবস্থান প্রায় একইরকম। সামরিক অভিযান থামিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের বার্তা দিয়েছে দুই দেশই।
অন্যদিকে, ওমানের সুলতানকে ফোন করে ইদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোদি। ইরানের হামলায় বেশ কয়েকবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ওমান। সেই প্রসঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ এবং মুক্ত হরমুজ প্রণালীর দাবিতে ওমানের সঙ্গেই রয়েছে ভারত। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ভারতে এমনিতেই গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানের ‘জ্বালানি যুদ্ধে’ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। যেহেতু ভারতের প্রয়োজনের তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের অধিকাংশই আমদানি করতে হয়। সেটার অনেকটাই হয় হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। তাই ভারত নিজের স্বার্থেই চায় যুদ্ধ বন্ধ হোক। শান্তির পক্ষে দাঁড়িয়ে ফ্রান্স-ওমানকে পাশে পাবে নয়াদিল্লি?
