কথায় বলে, 'আপনি আচারি ধর্ম পরকে শেখান।' সে কথা মাথায় রেখে দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নিজেও হাঁটলেন সেই পথে। পশ্চিম এশিয়ার সংকটে দেশের আর্থিক চাপ সামলাতে নিজের কনভয়ের ৫০ শতাংশ গাড়ি কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি কনভয়ে বৈদ্যুতিন গাড়ির সংখ্যা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (এসপিজি)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁর কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানোর জন্য। এই পদক্ষেপের জেরে নিরাপত্তায় যাতে কোনও খামতি না থাকে তা নিশ্চিত করে নির্দেশ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আরও একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নিজের কনভয়ে বৈদ্যুতিন গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, বৈদ্যুতিন গাড়ি ব্যবহারের জন্য নতুন করে কোনও গাড়ি কেনা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী নিজের কনভয়ে বৈদ্যুতিন গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, বৈদ্যুতিন গাড়ি ব্যবহারের জন্য নতুন করে কোনও গাড়ি কেনা যাবে না।
গত রবিবার তেলেঙ্গানার এক সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গোটা বিশ্বে পেট্রল-ডিজেলের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে। পেট্রল-ডিজেল সংরক্ষণের মাধ্যমে তা কেনার জন্য ব্যয় হওয়া বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো আমাদের সকলের দায়িত্ব।” পাশাপাশি বলেন, “আমি জনগণের কাছে আবেদন করব, আগামী এক বছর সোনা কিনবেন না।” বিদেশযাত্রা কমানো-সহ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয় এমন সমস্ত ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মোদির সেই আবেদনের পরই হায়দ্রাবাদের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে দেখা যায়। ভাদোদরা ও গুয়াহাটিতেও দেখা যায় একই ছবি।
এসপিজি সূত্রে জানা গিয়েছে, এসপিজি প্রোটোকলের অধীনে নিরাপত্তার কোনও খামতি না রেখে কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানো হয়েছে। মোদির আবেদনের পর সরকারি ক্ষেত্রেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। গাড়ি ছেড়ে মেট্রো, ই-রিকশায় যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছে একাধিক মন্ত্রীকে। প্রধানমন্ত্রীর পথে হেঁটে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান-সহ বিজেপির শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরাও তাঁদের গাড়ি বহর কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
