সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আগামী শুক্রবার আলাস্কায় রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি প্রক্রিয়ায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক বসতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই বৈঠকে 'অচ্ছুৎ' জেলেনস্কি, খবর এমনটাই। এহেন জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বললেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। দেশটির শহর-গ্রামের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় রুশ আক্রমণের অভিযোগ করেন তিনি। সোমবারের ফোনালাপে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানে ভারতের সমর্থনের কথা জানান মোদি। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের 'শুল্কবোমা'র মধ্যেই গত শুক্রবার পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন নমো। বলা বাহুল্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয়সংকটে নয়াদিল্লি।
জেলেনস্কির বক্তব্য, যখন যুদ্ধ থামার মতো কূটনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেই সময় রাশিয়া শান্তি প্রক্রিয়ার বদলে মানুষ খুন অব্যাহত রাখছে। মোদিকে ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জানান, গতকাল জাপরজাইতে একটি বাসস্টপে হামলা চালায় রুশ সেনা। যাতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়াও কতকটা ট্রাম্পের সুরে সুর মিলিয়ে যুদ্ধের আবহে রুশ রপ্তানি সীমিত হওয়া উচিত বলেও দাবি করেন জেলেনস্কি।
মোদির সঙ্গে ফোনালপের কথা এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি লিখেছেন, "ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আমরা সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং সামগ্রিক কূটনৈতিক পরিস্থিতি উভয় বিষয়েই। আমাদের জনগণের প্রতি উষ্ণ সমর্থনের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী (মোদির) প্রতি কৃতজ্ঞ।"
পালটা জেলনস্কির সঙ্গে ফোনালাপের কথা সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলতে পেরে এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলী সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি জানতে পেরে খুশি হয়েছি। যুদ্ধের দ্রুত এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে ভারতের দৃঢ় অবস্থানের কথা আমি জানিয়েছি। ভারত এই বিষয়ে যাবতীয় কর্তব্য সম্পাদনে বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি ইউক্রেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্যও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
প্রসঙ্গত, আমেরিকার সঙ্গে শুল্কযুদ্ধের মাঝেই গত শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বিষয়ে এক্স হ্যান্ডেলে মোদি জানান, "আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে খুব ভালো এবং বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিষয়ে আমাকে অবগত করানোর জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা আমাদের দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচি বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছি এবং ভারত-রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দৃঢ় করার লক্ষে একে অপরের সঙ্গে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছি। একইসঙ্গে চলতি বছরের শেষের দিকে তিনি যাতে ভারতের আতিথ্য গ্রহণ করেন সে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।"
