লোহাগড় দুর্গের হত্যাকাণ্ডে প্রকাশ্যে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। হবু স্বামী কেতন বিশাল আগরওয়ালকে হত্যার অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে। দু'জনকে জেরা করে জানা যাচ্ছে নানা তথ্য। এবার সূত্র মারফত জানা গেল, বিয়ের কেনাকাটার জন্য কেতনের থেকে ১ কোটি টাকা নিয়েছিলেন সিয়া। সেই টাকা তুলে দেন চেতনের হাতে।
জানা গিয়েছে, ইন্টারনেটে সার্চ করে খুনের নীল নকশা তৈরি করেছিলেন সিয়া। এমনকি পুলিশ হেফাজতে বিয়ার খাওয়ার বায়ানাক্কাও জুড়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, কেতনকে হত্যার পরবর্তী জীবন নিয়ে রীতিমতো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করে ফেলেছিলেন সিয়া এবং চেতন। কয়েকদিন আগে বিয়ের শপিংয়ের নাম করে কেতনের থেকে ১ কোটি টাকা নিয়েছিলেন সিয়া। পুরো টাকাটাই চেতনের হাতে তুলে দেন। চেতনের কেরিয়ার এবং ব্যবসা গড়ার জন্য এই টাকা প্রয়োজন ছিল বলেই জানা গিয়েছে। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে সিয়ার থেকে তিন বছর সময়ও চেয়েছিলেন চেতন।
এখানেই শেষ নয়, দু'জনের পরিকল্পনা ছিল তিন বছর বিয়ে করবেন না। কেতনের মৃত্যুর রেশ কেটে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে সিয়ার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াবেন চেতন, দু'জনের বিয়েতে সম্মতি দেবে সিয়ার পরিবার-এতদূর পর্যন্ত ভেবে ফেলেছিলেন তাঁরা। কেতনের সঙ্গে বাগদানের আগে চেতনের সঙ্গে উদয়পুর বেড়াতেও গিয়েছিলেন সিয়া। অন্যদিকে, কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, তাঁর পুত্রের মৃত্যুর সময়ে লোহাগড় দুর্গে ছিলেন অনেকেই। কিন্তু ভয়ে তাঁরা প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না। তাঁরা যেন সামনে আসেন, আবেদন জানিয়েছেন কেতনের বাবা।
পুণের লোহাগড় দুর্গে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটে হবু স্বামী কেতনকে খুনের ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। ফেব্রুয়ারিতে বাগদান সেরেছিলেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, আগামী নভেম্বরে কেতনের সঙ্গে সিয়ার বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু প্রাথমিকভাবে মত দিলেও পরে বিয়ে করতে চাননি সিয়া। সেকথা হবু স্বামীকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সিয়ার দাবি, পরিবারের এতটাই চাপ ছিল যে বিয়ে বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। তাই কেতনকে হত্যা করার পথ বেছে নেন। প্রায় একমাস ধরে পরিকল্পনা করে কেতনকে হত্যা করা হয়।
