সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের আগে লালকেল্লায় শোরগোল! খোদ প্রধানমন্ত্রী যেখান থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সেই চত্বরে মিলল বোমা! আরও আশ্চর্যের বিষয়, কড়া নিরাপত্তার মোড়া এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যে সন্দেহজনক বোমা পড়ে থাকলেও গা করল না দিল্লি পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার কথা সামনে আসতেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তায় গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে ৭ পুলিশকর্মীকে।
আসলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভিভিআইপি চত্বর লালকেল্লার নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে মক ড্রিলের আয়োজন করেছিল নিরাপত্তা বিভাগ। তারই অংশ হিসেবে সাদা পোশাকে জঙ্গিদের প্রবেশ করানোর কথা ছিল লালকেল্লায়। ছিল নকল বোমার ব্যবস্থা। লালকেল্লার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের বোকা বানিয়ে সেখানে প্রবেশ করতে সক্ষম হয় নকল 'জঙ্গি'দের দল। শুধু তাই নয়, দ্বিস্তরীয় মেটাল ডিটেক্টরকে টপকে বোমা-সহ ঢুকে পড়ে জঙ্গির বেশে থাকা সাদা পোশাকের নিরাপত্তা আধিকারিকরা। লালকেল্লার মধ্যে নকল বোমা রাখা হলেও তার কোনও খোঁজ পায়নি সেখানে থাকা নিরাপত্তাবাহিনী।
মক ড্রিলে লালকেল্লার নিরাপত্তার এমন চূড়ান্ত অব্যবস্থা নজরে আসার পর নিরাপত্তা বিভাগের তরফে এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হয় দিল্লির নর্থ জেলার ডিসিপি রাজা ভাটিয়াকে। স্বাধীনতা দিবসের আগে লালকেল্লার এমন ভয়াবহ নিরাপত্তা গাফিলতির বিষয়টি সামনে আসার পর সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করেন ভাটিয়া। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৭ পুলিশকর্মীকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৫ আগস্ট এই লালকেল্লার মঞ্চ থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সারা দেশের ভিভিআইপিদের সমাগম ঘটে এই জায়গায়। ফলে এই স্থানের নিরাপত্তার কড়াকড়ি যে কতখানি তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। একাধিক স্তরে নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয় লালকেল্লা চত্বরে। নিরাপত্তার ঘেরাটোপ এতটাই হয় যে কোনও সন্দেহভাজন ক্ষুদ্র ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করতে পারে না, অস্ত্র তো দূরের কথা। সেখানেই বোমা নিয়ে সাজানো জঙ্গির প্রবেশের ঘটনায় স্তম্ভিত দেশ। দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দেগে ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এ আসলে 'বজ্র আটুনি ফস্কা গেরো'।
