ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'ব্যাঘ্রগর্জন'কে ফাঁপা আওয়াজে নামিয়ে আনছে ভারত! সূত্রের খবর, ৭ বছর পর আবারও ভারতে আসতে চলেছে ইরানের তেল। অন্তত ৬ লক্ষ ব্যারেল অশোধিত তেল নিয়ে গুজরাটের বন্দরে ভিড়তে চলেছে একটি জাহাজ, এমনটাই জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের আগে ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করত ভারত। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর থেকে সেই আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যুদ্ধের আবহে আবারও ইরান থেকে তেল আমদানি শুরু করতে পারে ভারত।
জাহাজ ট্র্যাককারী সংস্থা কেপলার সূত্রে খবর, ইরানের খার্গ দ্বীপ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে পিং শুন জাহাজ। এই জাহাজটি এসওয়াতিনির আওতাভুক্ত। কেপলারের দাবি, এখনও পর্যন্ত জাহাজটি গুজরাটে গিয়েই থামার কথা। আগামী ৪ এপ্রিল গুজরাটে নোঙর করতে পারে জাহাজটি। তবে অনেকসময়ই এহেন 'নিষিদ্ধ' তেলবাহী জাহাজ একরকমের গন্তব্যপথ নথিভুক্ত করে কিন্তু পরে তা বদলে দেয়। তা সত্ত্বেও কেপলারের কর্তারা মনে করছেন, এই জাহাজটি ভারতেই যাবে। তার ফলে দীর্ঘ সাত বছর পর আবারও শুরু হবে ভারত-ইরানের (India-Iran) তেল বাণিজ্য। যদিও এই নিয়ে সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইরানের তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা ছিল ভারত। মূলত ২০০০ সালের পর থেকে ইরানি তেলে আমদানি হু হু করে বাড়তে থাকে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিজের প্রথম দফায় ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি ছেড়ে আমেরিকাকে বের করে আনেন ট্রাম্প। সঙ্গে জানিয়ে দেন, ইরানের তেল কিনলে দেশগুলিকে মার্কিন 'শাস্তি' পেতে হবে। সেই নির্দেশের ফলে ২০১৯ সালের মে মাসে ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে ভারত। কিন্তু এবার যুদ্ধের আবহে সেই ছবিটা পালটাতে পারে, এমনটাই মনে করছে কেপলার।
একমাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইরান বনাম ইজরায়েল এবং আমেরিকা যুদ্ধের জেরে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার। প্রবল চাপে পড়েই ভারত-সহ নানা দেশকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার 'অনুমতি' দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। একইভাবে ইরানের তেলও কেনার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে মার্কিন প্রশাসনের তরফে। এহেন পরিস্থিতিতে ভারতও ইরান থেকে তেল আমদানি করছে বলে কেপলারের দাবি। শেষ পর্যন্ত ইরানের তেল যদি ভারতে প্রবেশ করে, তাহলে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বিরাট সাফল্য পাবে নয়াদিল্লি, মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
