আড়াই বছরের জন্য মুখ্যমন্ত্রিত্ব, অর্ধেক আসন-থলপতি বিজয়কে জোটে টানতে একের পর এক লোভনীয় প্রস্তাব রেখেছিল বিজেপি। কিন্তু থলপতি বিজয়ের মন গেল না গেরুয়া শিবিরে। রাজনীতিতে পা রেখে তিনি বেছে নিলেন একলা চলো নীতি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এককভাবেই প্রার্থী ঘোষণা করেছেন দক্ষিণী সুপারস্টার। উল্লেখ্য, এই প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিজয়ের দল টিভিকে।
আগামী মাসেই তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচন। ভোট হবে পুদুচেরিতেও। দাক্ষিণাত্যের এই দুই বিধানসভায় বাজিমাত করতে বিজয়কে প্রবলভাবে সঙ্গে চেয়েছিল গেরুয়া শিবির। সূত্রের খবর, ভোট ঘোষণার আগে বিজয়কে উপমুখ্যমন্ত্রী পদ এবং ২৩৪টি আসনের মধ্যে ৮০টি ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। ভোট ঘোষণার পরে প্রস্তাব দেওয়া হয়, অর্ধেকটা সময় মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন বিজয়। আসনের ৫০ শতাংশও ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু কোনও কিছুতেই চিঁড়ে ভেজেনি।
আসলে প্রথমবার ভোটযুদ্ধে নামছে বিজয়ের দল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তামিলনাড়ুর আমজনতার মনে জায়গা করে নিয়েছে টিভিকে। গেরুয়া শিবির চেয়েছিল, বিজয়ের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তাকে নিজেদের ভোটবাক্সে টেনে আনতে।
দিনকয়েক আগেই এক অনুষ্ঠানে গিয়ে বিজয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি কোনও জোটেই যাচ্ছেন না। তাঁর মতে, "আমরা ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সামাজিক ন্যায়ের পক্ষে। তাই আমরা কোনওদিন কারোর সঙ্গে আপোস করব না।" সঙ্গে জানিয়ে দেন, "অনেকেই খবর ছড়াচ্ছে আমি তাদের জোটে অংশ নেব। কিন্তু আমাকে সামলানো তাদের কাজ নয়।" তবে শেষ মুহূর্তে সুপারস্টার পালটি খাবেন কিনা, অনেকের মনেই সংশয় ছিল। কিন্তু সেটা হয়নি। পুদুচেরির ৩০টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে বিজয়ের দল। তামিলনাড়ু নির্বাচনেও একাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে টিভিকে, এমনটাই অনুমান করা যাচ্ছে।
আসলে প্রথমবার ভোটযুদ্ধে নামছে বিজয়ের দল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তামিলনাড়ুর আমজনতার মনে জায়গা করে নিয়েছে টিভিকে। গেরুয়া শিবির চেয়েছিল, বিজয়ের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তাকে নিজেদের ভোটবাক্সে টেনে আনতে। বিজয়ভক্তদের ভোটের অন্তত দুই শতাংশও যদি বিজেপির ঝুলিতে আসে তাহলে তামিলনাড়ুর ভোটচিত্রটা পালটে যাবে বলেই মনে করছে গেরুয়া শিবির। সেকারণেই বিরাট লোভনীয় প্রস্তাব রেখেছিল সুপারস্টারের সামনে। কিন্তু সে গুড়ে বালি। বিজয়ের এই পদক্ষেপে তামিলনাড়ুতে তাঁর জনপ্রিয়তা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়তে চলেছে বলেই মত বিশ্লেষকদের।
