অষ্টম শ্রেণির এনসিইআরটি-র পাঠ্যবইয়ে ‘বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি’র অধ্যায় নিয়ে বুধবারই কড়া বার্তা দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শুধু তা-ই নয়, শীর্ষ আদালতের সেই পর্যবেক্ষণের পরেই ‘বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি’র অংশটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে আরও কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এনসিইআরটি-র (NCERT Book) 'বিতর্কিত' ওই পাঠ্যবই এবার নিষিদ্ধ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে আদালতে ক্ষমা চেয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু শীর্ষ আদালত মোদি সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে। জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্ত গভীর পর্যন্ত করতে হবে। দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে। উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, "যদি আপনি গোটা শিক্ষক সমাজ এবং শিক্ষার্থীদের শেখান যে বিচার বিভাগ দুর্নীতিগ্রস্ত - তাহলে কী বার্তা যাবে? শিক্ষকরা, অভিভাবকরা কী শিখবেন!" এরপরই প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ পাঠ্যবইটিকে ভারতে এবং দেশের বাইরেও নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি, আদালত জানিয়ে দিয়েছে, বইটি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবেও যেন অনলাইনে প্রকাশিত না হয়। একইসঙ্গে এনসিইআরটি-র চেয়ারম্যান অধ্যাপক দীনেশ প্রসাদকে নোটিসও পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
উল্লেখ্য, এর আগের সংস্করণের পাঠ্যবইয়ে মূলত দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আদালতের ভূমিকার কথাই শুধু ছিল। কিন্তু নতুন বইয়ে ‘আমাদের সমাজে বিচারবিভাগের ভূমিকা’ শীর্ষক সংশোধিত অধ্যায়ে শুধুমাত্র আদালতের গঠন, কাঠামো, ন্যায়বিচারের সুযোগের মধ্যেই আলোচনা সীমিত রাখা হয়নি। বিচারব্যবস্থার কাজকর্মে প্রভাব ফেলে, এমন সমস্যাগুলিও তুলে ধরা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতির প্রসঙ্গও।
বইয়ের ওই অধ্যায়ে বিচার ব্যবস্থার অন্দরে দুর্নীতি এবং বিশেষ করে সমাজের গরিব, আর্থিকভাবে দুর্বলতর অংশের সুবিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে তার প্রভাবের কথা রয়েছে। লেখা হয়েছে, সাধারণ মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতায় বিচারব্যবস্থার নানা স্তরে দুর্নীতি হতে দেখেন। গরিব ও প্রান্তিক অংশের মানুষের পক্ষে এর ফলে সুবিচার পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তাই রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা তৈরি ও বিচার কাঠামোয় স্বচ্ছতার প্রসারে লাগাতার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
