সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্রের নয়া শিক্ষানীতির শুরু থেকে বিরোধিতা করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন। হিন্দি আধিপত্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে এবার নিজ রাজ্যে নয়া শিক্ষানীতি চালু করল তামিলনাড়ু সরকার। দ্বিভাষা নীতিতে রাজ্যের সব স্কুলগুলিতে পড়ানো হবে শুধুমাত্র তামিল ও ইংরেজি।
তামিলনাড়ুতে এই দ্বিভাষা বিশিষ্ট শিক্ষানীতির তৎপরতা শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে। সেই লক্ষ্যে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মুরুগেসানের নেতৃত্বে গঠিত হয় ১৪ সদস্যের কমিটি। গত বছরের জুলাই মাসে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করে ওই কমিটি। অবশেষে শুক্রবার কট্টুরপুরমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন। সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রের জাতীয় শিক্ষানীতি ও হিন্দি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তামিলনাড়ু সরকারের এই পদক্ষেপ নিশ্চিতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্র যেখানে জাতীয় শিক্ষা নীতিতে তিন ভাষা তত্ত্বের উপর জোর দিয়েছিল, সেখানে স্ট্যালিনের রাজ্য শিক্ষা নীতিতে দুই ভাষার কথা বলা রয়েছে। কেন্দ্রের তিন ভাষায় ইংরেজি, হিন্দি ও স্থানীয় ভাষার উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য শিক্ষা নীতিতে তামিল ও ইংরেজি শিক্ষাই হবে মূল। সেখানে হিন্দির কোনও উল্লেখ নেই।
উল্লেখ্য, তিন ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে অহিন্দি রাজ্যগুলির উপর জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে বার বার সরব হয়েছে তামিলনাড়ি ও তেলেঙ্গানার মতো রাজ্যগুলি। এই হিন্দি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন। তিনি অভিযোগ করেন এই হিন্দি আগ্রাসনের জেরে উত্তর ভারতের বহু ভাষা যেমন ভোজপুরী, মৈথিলী, অওয়াধি, ব্রজবুলি, বুন্দেলির মতো ভাষা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এছাড়া বহু আঞ্চলিক ভাষা ধুঁকছে। একচেটিয়া হিন্দি চালু প্রাচীন মাতৃভাষাগুলিকে হত্যার প্রচেষ্টা বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক 'বাংলা বাংলাদেশি ভাষা' বিতর্কেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্ট্যালিন। সোশাল মিডিয়ায় এই ইস্যুতে তাঁর বার্তা, 'এটা এমন একটি ভাষার উপর আক্রমণ যে ভাষায় দেশের জাতীয় সঙ্গীত লেখা হয়েছিল। অহিন্দি ভাষার উপর আক্রমণের জবাবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন মমতা দিদি।'
