আকাশ থেকে পুষ্পবর্ষণে, লক্ষাধিক ভক্ত সমাগমে বিহারের পূর্ব চম্পারন জেলার কল্যাণপুর ব্লকে নির্মিয়মান বিরাট রামায়ণ মন্দিরে স্থাপিত হল বিশ্বের বৃহত্তম শিবলিঙ্গ। সহস্রলিঙ্গ বললে অবশ্য সঠিক বলা হয়। কারণ পুরাণ কথিত ১০০৮ লিঙ্গ (সহস্রালিঙ্গম) দ্বারা নির্মিত হয়েছে দেবাদিদেব মহাদেবের এই প্রতিরূপ। শনিবার যা যাবতীয় আচার মেনে স্থাপিত হল বিহারের নবনির্মিত মন্দিরটিতে। কী কী বিশেষত্ব রয়েছে এই শিবলিঙ্গের?
তামিলনাড়ুর মহাবলীপুরমের পট্টিবাডু গ্রামে নির্মিত হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম শিবলিঙ্গটি। গ্রানাইট পাথরের সহস্রালিঙ্গের ওজন ২১০ টন। উচ্চতা ৩৩ ফুট। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ কাজ চলার পর তা সম্পূর্ণ হয়। এর পর এক মাস পনেরো দিনেরও বেশি সময় ধরে যাত্রা করে অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং উত্তরপ্রদেশ অতিক্রম করে গত ৫ জানুয়ারি বিহারের গোপালগঞ্জ জেলায় এসে পৌঁছায় শিবলিঙ্গটি। যাত্রা শুরু হয়েছিল ২১ নভেম্বর। ২৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে বিরাট রামায়ণ মন্দিরে পৌঁছান মহাদেব। শনিবার কপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টির মধ্যে মন্দিরে স্থাপিত হয় বিশ্বের বৃহত্তম শিবলিঙ্গ। উপস্থিত লক্ষাধিক ভক্তের 'হর হর মহাদেব' ধ্বনিতে আন্দোলিত হয় মন্দির চত্বর। কৈলাস মানসরোবর, প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, গঙ্গোত্রী এবং সোনপুর-সহ পাঁচটি পবিত্রস্থান থেকে আনা জল দিয়ে এবং বৈদিকমন্ত্র পাঠের মাধ্যমে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা হয় এদিন।
বিরাট রামায়ণ মন্দিরে বিভিন্ন দেবদেবীর মোট ২২টি মন্দির তৈরি হচ্ছে। তার মধ্যে রয়েছে একটি শিব মন্দির। ১০৮০ দীর্ঘ এবং ৫৪০ ফুট চওড়া মন্দিরটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মন্দির বলে দাবি করা হচ্ছে। মন্দিরটিতে থাকবে ১৮টি চূড়া। একটি মন্দিরের চূড়ার উচ্চতা হবে ২৭০ ফুট। আটটি চূড়ার উচ্চতা হবে ১০৮ ফুট করে। মূল মন্দিরের সর্বোচ্চ ১০৮০ ফুট বলে দাবি করছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। মন্দিরের দেওয়ালে চিত্রিত হচ্ছে রামায়ণের দৃশ্য।
