দেশের ‘ব্যাঘ্র রাজ্যে’ই ক্রমশ কমছে বনের রাজার সংখ্যা। ২০২৫ সালে প্রাণ হারিয়েছে ৫৫টি। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে মারা গিয়েছে ৪৫টি। বনাঞ্চল ছোট হয়ে আসার খেসারত দিতে হচ্ছে মানুষকেও। বছরের প্রথম আট মাসের হিসেব বলছে, মধ্যপ্রদেশে বন্যপ্রাণীর আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের! যার মধ্যে ২২ জন মারা গিয়েছেন বাঘের হামলায়। এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে ভীতিপ্রদ।
জঙ্গল এলাকার ঘন-সন্নিবেশ। তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে বাঘেদের সংখ্যা। এই জাঁকজমক দেখেই গালভরা তকমা ‘টাইগার স্টেট’ পেয়েছিল মধ্যপ্রদেশ। কিন্তু সেই জৌলুস আজ ফিকে, সেই গরিমা আজ ভূলুণ্ঠিত। প্রতি বছর এ রাজ্যে কমছে বাঘের সংখ্যা। এদিকে জঙ্গল ছোট হয়ে যাচ্ছে মানুষের লোভে। কৃষিজমি ও অরণ্য কাছাকাছি এসে পড়ায় বনের প্রান্তে বাঘের উৎপাত বাড়ছে।
বনাঞ্চল ছোট হয়ে আসার খেসারত দিতে হচ্ছে মানুষকেও। বছরের প্রথম আট মাসের হিসেব বলছে, মধ্যপ্রদেশে বন্যপ্রাণীর আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের! যার মধ্যে ২২ জন মারা গিয়েছেন বাঘের হামলায়।
কেবল বাঘই নয়, অন্যান্য বন্য পশুর হামলাও বাড়ছে। এবছর বাঘের হামলায় ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি বুনো শুয়োরের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন আট জন, হাতির হামলায় সাত এবং ভালুকের আক্রমণে চার জন মারা গিয়েছেন। এদিকে চিতাবাঘের হামলায় মৃত্যু হয়েছে একজনের। আর একই সময়ের মধ্যে ৪৫টি বাঘেরও মৃত্যু হয়েছে। বন ও মানুষ, বিপণ্ণ দুই-ই।
৫০ জন মানুষের মৃত্যুর মধ্যে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে তিন মাসেই! এর মধ্যে মার্চে সাত, এপ্রিলে ১৩ ও মে মাসে মারা গিয়েছেন ১০ জন। আসলে এই সময়কালে, গ্রামের মানুষ বিশেষত উপজাতির মানুষেরা জঙ্গলের ভিতরে প্রবেশ করেন মহুয়া ফুল, তেঁদু পাতা সংগ্রহ করতে। আর এর ফলে বন্যপ্রাণের সংস্পর্শে তাঁরা আরও বেশি করে আসেন এই সময়ে।
প্রতীকী ছবি
এদিকে বাঘের মৃত্যুর ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, রোগঅসুখ বা দুর্ঘটনার মতো ফ্যাক্টর যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া কিংবা চোরাশিকারির হামলার মতো কারণও। সব মিলিয়ে মানুষ, পশুর বিপন্নতার ছবিটা ভয় জাগাচ্ছে। এই বিষয়ে আরও সচেতনতা প্রয়োজন বলেই মনে করা হচ্ছে।
