বিরোধী শূন্য লোকসভায় মঙ্গলবার পাস হয়ে গেল ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার সংক্রান্ত সংশোধনী বিল। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে-সহ বিরোধীদের তীব্র আপত্তির মধ্যেই মাত্র আড়াই ঘণ্টার আলোচনার পর মঙ্গলবার লোকসভায় ধ্বনিভোটে বিলটি পাস হয়ে যায়। তবে তার আগেই লোকসভা থেকে ওয়াক আউট করেন বিরোধী সাংসদরা।
এই বিলের মাধ্যমে ২০১৯ সালের ট্রান্সজেন্ডারদের সুরক্ষা আইনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত আইনে ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম আনা হয়েছে। আগে যেখানে স্ব-পরিচয়ের ভিত্তিতে ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় স্বীকৃতি পাওয়া যেত, সেখানে এখন মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে পরিচয়পত্র দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বিলটি নিয়ে এদিন লোকসভায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ জুন মালিয়া অভিযোগ করেন, এই সংশোধনী বিলটি ট্রান্সজেন্ডারদের মৌলিক অধিকারকে খর্ব করছে এবং এটি সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পরিপন্থী। তাঁর কথায়, “কেউ কে সে তা জানাতে রাষ্ট্রের অনুমতির প্রয়োজন হওয়া উচিত নয়।” এপ্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনের উদাহরণ তুলে ধরে বিলটিকে স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠানোরও দাবি জানান জুন।
তৃণমূল সাংসদ অভিযোগ করেছেন, "বিলটির মাধ্যমে স্ব-পরিচয়ের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ২০১৪ সালের একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ট্রান্সজেন্ডারদের স্ব-পরিচয়ের অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। কিন্তু নতুন সংশোধনীতে সেই অধিকার বাতিল করে মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে পরিচয় নির্ধারণের ব্যবস্থা আনা হয়েছে, যা অন্যায়। একই সঙ্গে জুন বলেন, বিলের মেডিক্যাল সার্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব ব্যক্তিগত মর্যাদা, গোপনীয়তা ও শারীরিক স্বায়ত্তশাসনের বিরোধী। সংশোধিত আইনে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দের সংজ্ঞাও সীমিত করা হয়েছে এবং অস্পষ্ট ফৌজদারি ধারার অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে বলেও সরব হয়েছেন তিনি।
যদিও সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে আইনের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে। এদিন বিলটি পাস হওয়ার পরই বিভিন্ন ট্রান্সজেন্ডার সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিলটি নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ শুরু হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।
