ইরান যুদ্ধের জেরে হেঁশেলে টান। সরকার পর্যাপ্ত গ্যাস থাকার দাবি করলেও, মধ্যবিত্তের রান্নাঘরের পাশাপাশি গোটা দেশের হোটেল, রেস্তরাঁ বন্ধ হওয়ার জোগাড়। রেহাই পায়নি রাম মন্দিরও। সেখানে সীতার হেঁশেলেও চলছে অরন্ধন। দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের ভয়াবহ বিপর্যয়ে এবার সংসদে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠল তৃণমূল। লুকিয়ে না থেকে সংসদে এসে গোটা ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানালেন বাংলার শাসকদল।
দেশের গ্যাস সংকট ইস্যুতে এদিন সংসদে সরব হন তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ। তিনি বলেন, "আজকের ব্রেকিং নিউজ হল অযোধ্যায় রামমন্দিরের সীতা রসুইয়ে উনোন জ্বলছে না। কিছুদিন আগে মন্ত্রী বলেছিলেন, কংগ্রেস দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। দেশে কোনও সংকট নেই। সংকট যদি না থাকবে তবে সাধারণ রান্না গ্যাসের দাম সিলিন্ডার পিছু ৬৫ টাকা করে কেন বাড়ান হল? গরিবকে কেন মারা হচ্ছে? সরকার কোনও উত্তর দিচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সালে নর্দমার গ্যাসের কথা বলেছিলেন। এনারা যদি সেটা মেনে থাকেন তবে দেশের বৈজ্ঞানিকদের দিয়ে সেটা বাস্তবায়ন করলেন না? তবে আজ এই সংকট দেখতে হত না। সব বাড়ির কাছে নর্দমা রয়েছে। তাহলে এত গ্যাস আমদানির প্রয়োজন হত না।"
জ্বালানি মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরিকে নিশানায় নিয়ে মহুয়া বলেন, "এপস্টেইন ফাইলের পর থেকে উনি নিখোঁজ ছিলেন। এখন সামনে এসে মিথ্যে বলছেন। উনি ১০ দিন আগে বসেছিলেন ৭৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। এখন বলছে ২৫ দিন।"
কীর্তির পাশাপাশি শুক্রবার সংসদ অধিবেশনের পর সংসদ চত্বরে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মহুয়া বলেন, "গোটা দেশে বাণিজ্যিক গ্যাসের সংকট গুরুতর। গতকাল অযোধ্যায় রাম মন্দিরের সীতা রসোইয়ে প্রসাদ ও ভোজন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দিল্লি হাই কোর্টের ক্যান্টিনও বন্ধ, সমস্ত হোটেল-রেস্তোরাঁগুলি তাঁদের রান্নার পদ কমিয়ে এক বা দুইয়ে নেমে এসেছে। যে পরিস্থিতি চলছে তা কোনওভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না। অথচ প্রধানমন্ত্রীর কোনও পাত্তা নেই সংসদে। তিনি নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত।" জ্বালানি মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরিকে নিশানায় নিয়ে মহুয়া আরও বলেন, "এপস্টেইন ফাইলের পর থেকে উনি নিখোঁজ ছিলেন। এখন সামনে এসে মিথ্যে বলছেন। উনি ১০ দিন আগে বসেছিলেন ৭৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। এখন বলছে ২৫ দিন। গোটা দেশে আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উচিত সংসদে এসে গোটা বিষয়টির ব্যাখ্যা দেওয়া। কিন্তু তা না করে উনি হুমকি নীতি নিয়েছেন।"
সমস্যা শুধু রাম মন্দিরে নয়, দেশের বেশিরভাগ মন্দিরেই প্রসাদ ভোজনের হেঁশেল গ্যাসের অভাবে বন্ধ। রান্নার গ্যাসের আকালে প্রথমবার বন্ধ হয়েছে রামনগরী অযোধ্যার 'রাম রসোই' বা 'রামের হেঁশেল'। যেখানে বছরের পর বছর ধরে খেয়ে আসছেন সাধারণ গরিব মানুষ ও রাম ভক্তরা। স্বাধীনতার পর প্রথমবার এই হেঁশেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হল বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি। পর্যাপ্ত রান্নার গ্যাসের যোগান ও রামের হেঁশেল ফের চালু করার দাবিতে ধরনায় বসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অযোধ্যার সাংসদ অবধেশ প্রসাদ।
