রাম মন্দিরের চুরির ঘটনায় আদৌ উপযুক্ত তদন্ত হচ্ছে তো? রাঘব বোয়ালদের আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে না তো? এসব নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই শ্রীরামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের পদত্যাগী প্রধান চম্পত রাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। সন্দেহের আওতায় যে তিনিও আছেন, সেটা বুঝিয়ে দেওয়া হল ট্রাস্টের প্রধানকে। যদিও মন্দিরে চুরির ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছেন না উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্য। চম্পতের পাশে দাঁড়িয়ে বলছেন, "এসব নিয়ে এত হইচই করার মতো কিছুই হয়নি।"
রাম মন্দিরে চুরির ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। রিপোর্টে উঠে এসেছে, রামমন্দিরে নগদ প্রণামী জমা পড়েছে ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি, সঙ্গে অগণিত সোনা-রুপোর গয়না৷ এর একটা বড় অংশের হদিশ মিলছে না। চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ট্রাস্ট ঘনিষ্ঠ ৮ জনকে। এই ঘটনা সামনে আসার পরই রাম মন্দির ট্রাস্টের প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন চম্পত। কিন্তু তাতে বিতর্ক থামেনি। প্রশ্ন ওঠা শুরু করেছিল, চুরির ঘটনায় অনেক বড় নাম জড়িয়ে। সেই রাঘব বোয়ালদের আড়াল করা হচ্ছে না তো?
এরপরই বৃহস্পতিবার চম্পতের বিরুদ্ধে ফৈজাবাদ বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবীরা প্রতিবাদ মিছিল করেন। আদালত থেকে থানা পর্যন্ত মিছিল করে তাঁরা অভিযোগ দায়ের করেন চম্পতের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে যেন দ্রুত এফআইআর দায়ের করা হয়, এই মর্মে আর্জিও জানান আইনজীবীরা। ওই অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই চম্পত-সহ ট্রাস্টের ৩ শীর্ষকর্তাকে ডেকে পাঠায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। চম্পত রাইয়ের পাশাপাশি অনিল মিশ্র এবং গোপাল রাও-এই তিনজনকে ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
যদিও চম্পতদের এভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করায় খানিকটা ক্ষুব্ধ উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্য। তিনি বলছেন, "যারা এই রামজন্মভূমি আন্দোলনের জন্য প্রাণপাত করেছেন, তাঁরা সাধুর মতো। এই চুরির ঘটনায় তাঁরাও ব্যাথিত। আমার মনে হয়, এই চুরি নিয়ে এত হইচই করার কিছুই হয়নি।"
