ভারতীয় রাজনীতির পুরনো প্রবাদ। দিল্লির রাস্তা লখনউ হয়ে যায়। রাজনৈতিক মহল বলে, উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন আসলে লোকসভার সেমিফাইনাল। বছর ঘুরলেই সেই উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন। এবারেও সে রাজ্যে মূল লড়াই বিজেপির যোগী আদিত্যনাথ এবং সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবের মধ্যে। সেই ভোটের আগে নিত্যদিন নিত্যনতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। আবার সঙ্গে রয়েছে বিবাদ-অস্বস্তিও।
এবার অখিলেশ যাদবকে জোটের প্রস্তাব দিয়ে তাঁর অস্বস্তি বাড়িয়ে দিলেন এআইএমআইএম সুপ্রিমো আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। শনিবার মোরাদাবাদের এক সভা থেকে ওয়েইসি বলেন, "মজলিশ চায় না উত্তরপ্রদেশে আবারও বিজেপি সরকার গড়ুক। আমি আপনার সঙ্গে হাত মেলাতে প্রস্তুত। আমি জোট গড়তে প্রস্তুত। তাই জোট নিয়ে আলোচনা করতে হলে এখনই করতে হবে। পরে ভোট পেরিয়ে গেলে কান্নাকাটি করে লাভ হবে না।" ওয়েইসির সাফ কথা, "আপনারা বলেন আমার দল ভোটে লড়লে আপনাদের ক্ষতি হয়। সেটা যেন না হয় সেজন্যই আমি আপনাদের সঙ্গে লড়তে চাই। সামনা সামনি-সমানে সমানে কথা বলতে চাই।"
অর্থাৎ অখিলেশকে খোলাখুলি জোটপ্রস্তাব দিচ্ছেন ওয়েইসি। আর তাতেই যত অস্বস্তি সপা সুপ্রিমোর। উত্তরপ্রদেশে এ পর্যন্ত কোনও নির্বাচনে সেভাবে প্রভাব ফেলতে না পারলেও ওয়েইসিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা যায় না। বিহারে তাঁকে উপেক্ষা করার ফল পেয়েছে আরজেডি-কংগ্রেস জোট। তাছাড়া উত্তরপ্রদেশের মুসলিম বেল্টগুলিতেও প্রভাব বাড়ছে মজলিশের। প্রশ্ন হল, তাহলে কি অখিলেশ শেষমেশ ওয়েইসির হাত ধরবেন? তাতেও সমস্যা। একে তো কংগ্রেসের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির জোট রয়েছে। সেই জোট বিধানসভাতেও চলবে। সমস্যা হল, কংগ্রেস জোটে থাকলে সেই জোটে ওয়েইসির হাত ধরা অসম্ভব। তাছাড়া 'সাম্প্রদায়িক' ওয়েইসির সঙ্গে সঙ্গে জোট করলে সেটা বিজেপির হাতে ব্রহ্মাস্ত্র তুলে দেওয়ার শামিল হবে। ইতিমধ্যেই বিজেপি নেতারা বলতে শুরু করেছেন, "ওয়েইসি এবং অখিলেশ যাদব দু'জনেই তোষণে সিদ্ধহস্ত। দু'জনের ভোটব্যাঙ্কও একই। তাই জোট করবেন সেটাই স্বাভাবিক।"
উত্তরপ্রদেশের গত দুই নির্বাচনে যোগীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এঁটে উঠতে পারেননি অখিলেশ। ২০১৭ এবং ২০২২ নির্বাচনে কার্যত একপেশেভাবে পরাস্ত হয়েছে সমাজবাদী পার্টি। সম্ভবত সেকারণেই এবার নতুন করে সঙ্গীর খোঁজ করছেন তিনি। এখন দেখার অখিলেশের নতুন সেই সঙ্গী ওয়েইসি হন কিনা।
