স্বামীর সঙ্গে মিলে প্রেমিককে খুন করার অভিযোগ উঠল উত্তরপ্রদেশের এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, খুনের পর দেহ লোপাট ও সমস্ত প্রমাণ কী করে নিশ্চিহ্ন করা যায় তা ইউটিউবে সার্চ করেন ওই 'ঘাতক' দম্পতি। কেবল তাই নয়, দেহ টুকরো করে আগুনে পোড়ানোর চেষ্টাও তাঁরা করেন বলে অভিযোগ। শেষপর্যন্ত পুলিশি জেরায় নিজেদের অপরাধ তাঁরা কবুলও করে নিয়েছেন বলে দাবি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁদের।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম বিজয় নিশাদ। ৮ মে থেকে কোনও খোঁজ মিলছিল না তাঁর। বাড়িতে স্বাভাবিক ভাবেই উৎকণ্ঠা শুরু হয়ে যায়। তিন দিন পরও খোঁজ না মেলায় পুলিশে নিখোঁজ ডায়রি করে বিজয়ের পরিবার। তদন্তে নামে পুলিশ। দেখা যায়, বিজয়ের ফোন শেষবার ব্যবহৃত হয়েছিল কিরণ দেবী নাম্নী এক মহিলার বাড়ির পাশে। খবর নিতেই জানা যায়, ওই মহিলার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বিজয়ের।
পুলিশ এরপর কিরণ দেবী ও তাঁর স্বামী কামতাপ্রসাদ নিশাদকে সন্দেহ করতে থাকে। তাঁদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে থাকে। দাবি, এরপরই ভেঙে পড়ে সব অপরাধ কবুল করেছেন ওই দম্পতি। পুলিশ সূত্রে আরও দাবি, কিরণ ও বিজয়ের মধ্যে অনেকদিন ধরেই সম্পর্ক ছিল। কামতাপ্রসাদ সব জানতে পারার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারপর স্ত্রীর সঙ্গে মিলে চক্রান্ত করেন বিজয়কে খুন করার। ঘটনার দিন, কিরণ বিজয়কে বাড়িতে ডেকে পাঠান। এবং তিনি পৌঁছতেই তাঁকে খুন করেন কামতাপ্রসাদ। এরপর দেহ পাশে রেখেই তাঁরা ইউটিউবে বেশ কিছু ভিডিও সার্চ করেন। তাঁদের গুগল ও ইউটিউব সার্চ হিস্ট্রি থেকে নাকি জানা যাচ্ছে, প্রমাণ লোপাটের ভিডিওর পাশাপাশি খুনের শাস্তি, জেলের অভ্যন্তর এমনকী মৃত্যুদণ্ড সম্পর্কেও ভিডিও দেখেন দু'জনে মিলে। পরে বিজয়ের দেহ টুকরো করে পুড়িয়ে দেন দূরের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে। এমনকী, বিজয়ের জুতো, এটিএম কার্ড, প্যান কার্ড প্রভৃতি সবই বিভিন্ন জায়গায় ফেলে আসেন তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে। কিন্তু শেষপর্যন্ত সব পরিকল্পনাই ব্যর্থ হয়। দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানাচ্ছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে বিজয়ের দেহাংশ, মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, পোড়া পোশাকের টুকরো, একটি মোটরসাইকেল, ধারালো অস্ত্র।
