জাতীয় সঙ্গীত 'জনগণমন'-র সমমর্যাদা দেওয়া হবে জাতীয় স্তোত্র 'বন্দেমাতরম'কে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট বৈঠকে এমনই একটি প্রস্তাবে অনুমোদন মিলেছে। জানা গিয়েছে, জাতীয় সঙ্গীত যে আইনি কাঠামোর সুরক্ষার আওতাভুক্ত, এবার সেই সুরক্ষা পেতে চলেছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সঙ্গীতটিও। আর সেই কারণেই ‘জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইন’-এর সংশোধনীতে অনুমোদন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই আইন এখনও পর্যন্ত প্রযোজ্য জাতীয় পতাকা, সংবিধান, জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার ক্ষেত্রে। এবার এতে সংযোজিত হতে চলেছে বন্দেমাতরমও! আইন অনুসারে, এই গান গাওয়ার সময় তা প্রতিহত বা ব্যাহত করলে হতে পারে জেল কিংবা জরিমানা অথবা উভয়ই। জেলের ক্ষেত্রে তিন বছরের সর্বোচ্চ কারাবাসের সাজা হতে পারে। কেউ পরে ফের একই অপরাধ করলে আরও একবছরের জেল হবে।
জাতীয় সঙ্গীত যে আইনি কাঠামোর সুরক্ষার আওতাভুক্ত, এবার সেই সুরক্ষা পাবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সঙ্গীতটিও। আর সেই কারণেই ‘জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইন’-এর সংশোধনীতে অনুমোদন করা হয়েছে।
কয়েক বছর আগে দিল্লি হাই কোর্টে জনস্বার্থে মামলা দায়ের করেন বিজেপি নেতা ও আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়। তাঁর আরজি ছিল, প্রতিটি স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনগণমন’ ও ‘বন্দেমাতরম’ দুটিই যেন গাওয়া হয়। অশ্বিনি উপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল, আমাদের ইতিহাসের এক প্রতীক ‘বন্দেমাতরম’। যদি কোনও নাগরিক প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনওভাবে এই গানের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে তাহলে সেটাকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বলে ধরতে হবে। আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রের কাছে হলফনামা চেয়েছিল দিল্লি হাই কোর্ট। সেই হলফনামায় কেন্দ্র জানিয়েছে, বন্দে মাতরম এবং জনগণমন একই স্তরে দণ্ডায়মান। তবে জাতীয় সংগীত গাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম আছে। যেগুলি না মানলে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হয়। কিন্তু বন্দে মাতরমের ক্ষেত্রে তেমন কোনও শর্ত নেই। অবশেষে এই পদক্ষেপ করল মোদি সরকার।
উল্লেখ্য, এর আগে বন্দেমাতরমকে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে ঘোষণা করার দাবি একাধিকবার উঠেছে সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালত প্রতিক্ষেত্রেই বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে খারিজ করে দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, দুটি সঙ্গীতকে সমান মর্যাদা দেওয়ার কোনও সুযোগ সংবিধানে নেই।
