দেশজুড়ে সমালোচিত কেন্দ্রের ইথানল নীতি। ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রলে (E20 Petrol) গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই আবহেই কেন্দ্রের ইথানল নীতির সমর্থনে বিতর্কিত মন্তব্য শোনা গেল মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ জনার্দন মিশ্রের (Janardan Mishra) গলায়। সমালোচকদের তোপ দেগে তিনি বললেন, '১০০ শতাংশ খাঁটি পেট্রল কি তোমার বাবার বাড়ি থেকে আসবে?'
সম্প্রতি এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জনার্দন বলেন, "ভারত নিজের প্রয়োজনীয় তেলের মাত্র ২০ শতাংশ উৎপাদন করে, বাকি ৮০ শতাংশ বাইরে থেক আমদানি করতে হয়। তেল আনার জন্য ট্যাঙ্কারগুলিকে কখনও কখনও অতিরিক্ত ১৮,০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। এই অবস্থায় যখন প্রধানমন্ত্রী পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর কথা বলছেন, তখন কিছু লোকের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে।" এরপরই সাংসদ বলেন, "দেশের একটা আন্দোলন শুরু হয়েছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে ইথানল নাকি কাজ করছে না। খাঁটি পেট্রলই কাজ করবে। আমার প্রশ্ন হল, ''খাঁটি পেট্রল কি আপনার বাবার বাড়ি থেকে আসবে? দেশে যদি বিশুদ্ধ পেট্রল না থাকে, তাহলে তা কোথা থেকে আসবে?”
ব্রাজিলের উদাহরণ টেনে জনার্দন বলেন, 'সেখানকার যানবাহন যদি সম্পূর্ণভাবে এই জ্বালানিতেই চলতে পারে। তাহলে এখানেও তা সম্ভব।'
ভারতে বিকল্প জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করে সাংসদ আরও বলেন, "যদি ইথানল উৎপাদন না করা হয়, তাহলে এত পেট্রল ডিজেল আসবে কোথা থেকে?" এপ্রসঙ্গে ব্রাজিলের উদাহরণ টেনে জনার্দন বলেন, "সেখানকার যানবাহন যদি সম্পূর্ণভাবে এই জ্বালানিতেই চলতে পারে। তাহলে এখানেও তা সম্ভব। ব্রাজিল বিশ্বে সর্বাধিক ইথানল উৎপাদন করে, সেখানকার ১০০ শতাংশ যানবাহন এই পেট্রলে চলে। ভারতের বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করেছেন ইথানলের মিশ্রন জ্বালানির কোনও ক্ষতি করে না। ফলে এই নীতির বিরোধিতা অর্থহীন।"
এদিকে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে জ্বলানি তেলের দাম বাড়িয়েছে তেল সংস্থাগুলি। নয়া দর অনুযায়ী, সোমবার দিল্লিতে ইথানল ছাড়া পেট্রলের দাম লিটার প্রতি দাঁড়িয়েছে ১৬৭.৩৫ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ পেট্রোলের দাম ১০২.১২ টাকা এবং এক্সপি-৯৫ পেট্রলের দাম রাখা হয়েছে ১০৯.২৮ টাকা।
