শিক্ষক, আইএএস বা অন্য কোনও পেশায় সাফল্য অনেক পরের ব্যাপার। আগে আদর্শ মা হওয়ার শিক্ষা নেওয়া উচিত ছাত্রীদের। এমনটাই মনে করেন উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল তথা গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আনন্দিবেন প্যাটেল। তাঁর সাফ কথা, পেশাদারিত্বের চাপে যেন কোনওভাবেই পরিবার উপেক্ষিত না থাকে। বৃহস্পতিবার ছত্রপতি শাহুজি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গিয়ে সে কথা স্পষ্ট বলেছেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপালের ওই মন্তব্যে তাঁর 'প্রাচীনপন্থী' মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
আনন্দিবেন প্যাটেলের বক্তব্য, "আপনি শিক্ষক হন বা আইএসএস, যে পেশাতেই থাকুন, আপনার ভালো পা হওয়াটা জরুরি। প্রত্যেকের জানা উচিত কীভাবে রান্না করতে হয়, কীভাবে খাবার পরিবেশন করতে হয়।" মেয়েদের অভিভাবকদের সতর্ক করে গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, অভিভাবকদের উচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মেয়েরা কী করছে সেদিকে নজর রাখা। কারণ এই সময় ছোটখাটো ভুল ওদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিতে পারে।
যেভাবে দিন দিন গার্হস্থ হিংসা বাড়ছে, মেয়েদের উপর অত্যাচার বাড়ছে সেটা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আনন্দিবেন। তবে তাঁর বক্তব্য, প্রথাগত শিক্ষা থেকে বেরিয়ে সমাজ গড়ার শিক্ষা দিতে হবে। মেয়েদের শিক্ষাকে সমাজের উন্নতিতে কাজে লাগাতে হবে। মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে। তিনি বলছেন, "পেশাদারিত্বের নামে পরিবারকে উপেক্ষা করা যাবে না। ছাত্রীদের উচিত সামাজিক মূল্যবোধ তৈরিতে সাহায্য করা। ডিগ্রি বাড়ছে অথচ সামাজিক অবক্ষয় হচ্ছে, সেটা হলে বোঝা যায় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার কী অবস্থা।"
সোশাল মিডিয়ায় আনন্দিবেনের বক্তব্য নিয়ে কাটাছেড়া শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, নারী মানেই ঘরকন্না, নারী মানেই রান্নাঘরের ঘেরাটোপ! সেই পুরনো ধারণা থাকে কি এখনও বেরোতে পারেননি উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল। আবার কারও মতে, আনন্দিবেন যা বলছেন, তাতে বিতর্কের কোনও অবকাশ নেই। সামাজিক মূল্যবোধের পাঠ দেওয়ার মধ্যে ভুল কিছু নেই।
