রাজপাট গিয়েছে। বিহারে সরকারি পালাবদলের পর নিরাপত্তাও প্রত্যাহার হয়েছে লালু প্রসাদ যাদবের বাড়ির সামনে থেকে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিজেরাই কাঁধে তুলে নিলেন দলের কর্মীরা। সকাল সকাল লাঠি হাতে লালুর বাড়ির সামনে পাহারায় বসলেন আরজেডি কর্মীরা। বিহার স্পেশাল আর্মড পুলিশের তরফে হাই প্রোফাইল নিরাপত্তা বহাল ছিল লালু প্রসাদ যাদব ও তাঁর স্ত্রী রাবড়ী দেবীর বাড়ির সামনে। সেই চেনা ছবি উধাও। খাঁ খাঁ করছে বিহারের রাজধানী পটনার ১০, সার্কুলার রোডের সরকারি বাংলো চত্বর। শনিবার সকালে লাঠি হাতে বসে থাকতে দেখা গেল গুটিকতক দলীয় সমর্থকদের।
বিহারে প্রথমবার সরকার গড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন সম্রাট চৌধুরী। সরকারি পালাবদল হতেই নিরাপত্তা পর্যালোচনা নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ের বৈঠকের পর নিরাপত্তা প্রতাহ্যার হয় লালুর। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রত্যাহার করা হয় লালু প্রসাদের জেড প্লাস নিরাপত্তা। তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি বর্তমানে বিহার স্পেশাল আর্মড পুলিশের ৮ জন নিরাপত্তারক্ষী, পাটনা জেলা ফোর্সের ২ জন বডিগার্ড, একটি পাইলট গাড়ি ও একটি বুলেটপ্রুফ গাড়িও বরাদ্দ করা হয়েছে লালুর জন্য। লালুর ছেলের অর্থাৎ বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবকে ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দিয়েছে সরকার।
প্রসঙ্গত, সরকারি তরফে নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পরেই সরব হন লালু প্রসাদের মেয়ে রোহিনী আচার্য। এক্স মাধ্যমে একটি পোস্টে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি লেখেন, "প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে আসলে তাঁদের বিপদে মুখে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পনা। হাতে গোনা নিরাপত্তারক্ষী বহাল আসলেই লোক দেখানো।" তিনি আরও লেখেন, "সরকারি তরফে বহাল নিরাপত্তাকর্মীদের রাবড়ি দেবী তাঁর বাংলোর সামনে থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।" একথাও এক্স-পোস্টে জানান লালু-কন্যা।
লালু প্রসাদ যাদবের বাড়ির সামনে থেকে নিরাপত্তা প্রত্যাহার হতেই সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন আরজেডি সমর্থকরাও। দলের সুপ্রিমোর বাড়ির সামনে পাহারা দিতে এক্স মাধ্যমে দলীয় কর্মীদের আহ্বান জানান এক আরজেডি সমর্থক। বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি লেখেন, "বিহারের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কীভাবে রাবড়ি দেবী হেনস্তার শিকার হয়েছেন, তা গোটা দেশে জানে।"
