গ্রেপ্তারির খবরকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাত থেকে সংবাদ শিরোনামে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। যদিও শেষ পর্যন্ত জানা গিয়েছে, তিনি মুক্ত। তবে যে কোনও মুহূর্তে আয় বহির্ভূত সম্পত্তি থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এই আশঙ্কায় হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করলেন অদিতি মুন্সি ও দেবরাজ চক্রবর্তী। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন। শুক্রবার এই মামলার শুনানি হতে পারে।
বঙ্গ রাজনীতিতে বরাবরই বেশ চর্চিত নাম দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সি। উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা দেবরাজ চক্রবর্তী। যুব তৃণমূল কর্মী হিসেই তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের সূচনা। ২০১৩ সালে পুরসভার উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন দেবরাজ। কিন্তু তৃণমূল তাঁকে টিকিট দেয়নি। ২০১৫-তেও মেলেনি টিকিট। তারপর কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। বিধাননগর পুরনিগম এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের টিকিটে লড়েন তিনি। জিতেওছিলেন। পরবর্তীতে ফিরে যান তৃণমূলে। বিয়ের পর স্ত্রী অদিতি মুন্সিকে রাজনীতিতে নিয়ে আসেন রাজনীতিতে। ২০২১ সালে রাজারহাট-গোপালপুর আসনে বিধায়ক হন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই দেবরাজের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি-সহ একাধিক অভিযোগ উঠছিল। নাম জড়িয়েছিল নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও।
দিন দুয়েক আগে খবর ছড়িয়ে পড়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দেবরাজ চক্রবর্তীকে। তা নিয়ে তোলপাড় হয় রাজ্য-রাজনীতি। যদিও পরবর্তীতে জানা যায়, তাঁকে নয়, তাঁর ঘনিষ্ঠ অমিত চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই ঘটনার পরই বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন অদিতি ও দেবরাজ। জানা যাচ্ছে, অভিযোগ উঠছে নির্বাচনী হলফনামায় সঠিক পরিমাণ সম্পত্তি দেখানো হয়নি। আশঙ্কা, এই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হতে পারে। সেই কারণেই এবার আগাম জামিনের আর্জি নিয়ে আদালতে অদিতি ও দেবরাজ।
