সোমবার বিকেলেই 'পদ্মশ্রী' প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বালিগঞ্জের বাড়িতে গিয়ে অভিনেতার সঙ্গে দেখা করে এলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক ও বিজেপি নেত্রী-অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়রা। 'ইন্ডাস্ট্রি'র সঙ্গে মিনিট পনেরোর শাহী সাক্ষাতে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, এবার কি তবে গেরুয়া শিবিরের পথে পা বাড়ালেন প্রসেনজিৎ? এহেন গুঞ্জনে যখন রাজনৈতিকমহল থেকে সিনেদুনিয়া সরগরম, তখন দিন তিনেকের মাথায় ফের নবান্নে 'ইন্ডাস্ট্রি'। শাহী সাক্ষাতের পর আচমকাই কেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক প্রসেনজিতের? উঠছে প্রশ্ন।
ওয়াকিবহালমহলের প্রশ্ন, বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রসেনজিতের এহেন ঘন ঘন সাক্ষাৎ কি আদতেই সৌজন্যমূলক নাকি নেপথ্যে রাজ্যসভার আসন তত্ত্ব?
জল্পনা, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে এবার রাজ্যসভার পাঠাতে পারে গেরুয়া শিবির! কারণ সোমবারই রাজ্যসভার তিনটি আসনে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়েছে। তৃণমূলের ডেরেক ও ব্রায়েন, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক পদত্যাগ করায় যে আসনগুলি খালি হয়েছে, আগামী ২৪ জুলাই তার ভোট। সংখ্যাতত্ত্বের নিরিখে এই তিনটি আসনই এবার বিজেপির হতে চলেছে। ওয়াকিবহালমহলের প্রশ্ন, বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রসেনজিতের এহেন ঘন ঘন সাক্ষাৎ কি আদতেই সৌজন্যমূলক নাকি নেপথ্যে রাজ্যসভার আসন তত্ত্ব? নাকি বাংলায় সরকার গঠনের পর এবার রাজ্যসভার একটি আসনে তারকামুখ পাঠাতে চায় বিজেপি? সেই কারণে প্রসেনজিতের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে গেলেন শাহ? বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর সেই জল্পনাযজ্ঞে যে ঘৃতাহূতি পড়ল, তা বলাই বাহুল্য। উল্লেখ্য, এদিন নবান্নে উপস্থিত হন শতাব্দী রায়, ইউসুফ পাঠানরাও।
সোমবার বিকেলেই 'পদ্মশ্রী' প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বালিগঞ্জের বাড়িতে যান অমিত শাহ
‘পদ্মশ্রী’ সম্মান পাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের নেতাদের যোগাযোগ আরও বেড়েছে। সেই আবহেই প্রসেনজিতের রাজনীতিতে আগমন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে।
এই প্রথম নয়। ভোটের আবহে সুকান্ত মজুমদার, শমীক ভট্টাচার্যের মতো নেতাও প্রসেনজিতের বাড়ি গিয়ে দেখা করে, কথা বলে এসেছেন। এবছর ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান পাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের নেতাদের যোগাযোগ আরও বেড়েছে। সেই আবহেই প্রসেনজিতের রাজনীতিতে আগমন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। এমনকী ভোটের প্রার্থী হওয়া নিয়েও গুঞ্জন, ফিসফাস শুরু হয়। যদিও অভিনেতা এবং নেতা – দু'পক্ষেরই দাবি ছিল, এসব একেবারেই সৌজন্য সাক্ষাৎ। এরপর স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর তাঁর বাড়িতে আসা, আর এবার খোদ 'ইন্ডাস্ট্রি'র নবান্নে পা রাখাকে এক ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহালমহল।
