এসএফআই ও এবিভিপি, দুই ছাত্র সংগঠনের দফায় সফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। নন্দলাল বসুর নকশা করা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক স্মারক প্রতীকও খুলে পড়েছিল দরজা থেকে। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা নিয়ে বার্তা দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। "যে দলেরই হোক, এমনকী আমার দলের লোক হলেও আমরা সমর্থন করব না।" সেই কথাই বললেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও এমব্লেম ভাঙার ঘটনায় এদিন নিন্দা করেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি এদিন বলেন, "স্বাধীনতার সময় থেকে চলে আসা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বিশেষ খ্যাতি ও এমব্লেম ছিল, আজ তা যদি ভেঙে ফেলা হয়, সমর্থন করি না।" শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহিরাগত ঢোকার ঘটনাকেও সমর্থন করেন না মন্ত্রী। সুর চড়িয়ে বলেন, "সে যে দলেরই হোক, এমনকী আমার দলের লোক হলেও আমরা সমর্থন করব না। দয়া করে স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি আনবেন না, ওগুলো বাইরে রাখুন।"
বাম আমলে শিক্ষাঙ্গণগুলিতে 'অনিলায়ন' ছিল। পরবর্তী তৃণমূল সরকারের আমলেও শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনীতি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়েছিল বলে অভিযোগ। রাজ্যে পালাবদলের পরে শিক্ষাক্ষেত্রকে রাজনীতির ছত্রছায়া থেকে মুক্ত রাখা হবে বলে বার্তা দিয়েছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এই বার্তা দিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গও এদিন উত্থাপন করেছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। তিনি বলেন, "একসময় বলা হত অনিলায়ন, পার্থায়ন বা মমতায়ন। কিন্তু আমাদের সময় তা কেউ বলতে পারবেন না। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যাঁদের বোর্ডে রেখেছেন, তাঁরা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। আমরা সব কিছুতে রাজনীতি চাই না।’’
বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অরবিন্দ ভবনে বহিরাগতদের হামলা হয়েছিল। বাম ছাত্র সংগঠন ও আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। বৃহস্পতিবারও তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। ক্যাম্পাসে ঢুকে ভাঙচুরও হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটে থাকা প্রতীকের এমব্লেম ভেঙে পড়ে। বাম সংগঠনগুলির দাবি এভিবিপির সমর্থকরা নন্দলাল বসুর তৈরি করা ওই এমব্লেম ভেঙেছে। বামেরা সেটি ভেঙেছে, পালটা দাবি এভিবিপির। গতকাল, শুক্রবার সেই এমব্লেম মেরামত করে ফের ৪ নম্বর গেটে বসানো হল। উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য।
