অর্ণব আইচ: আগে স্বামীর সঙ্গে সহমরণের প্রথা চালু ছিল। যদিও সে নিয়ম উঠেছে আগেই। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে সেই নিয়মেই শেষ হয়ে গেল কসবার (Kasba) শিপ্রা মিত্রের জীবনে। স্বামীর শ্রাদ্ধের দিন জ্বলন্ত প্রদীপ থেকে গায়ে আগুন লেগে যায়। বারো দিন চিকিৎসার পর শেষ হল জীবনযুদ্ধ। স্বামীর মতো না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন বৃদ্ধাও। মাত্র এক মাসের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী দু’জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত পরিজনরা। কঠিন বাস্তবকেও যেন মানার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন তাঁরা।
ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে মৃত্যু হয় কসবার নস্কর লেনের বাসিন্দা জ্যোতির্ময় মিত্রর। তাঁর পরিবারের লোকেরা কসবার ডা. জি এস বোস রোডের একটি ক্লাবে শ্রাদ্ধের আয়োজন করেন। গত ২৩ ডিসেম্বর শ্রাদ্ধের কাজ করতে পরিবারের লোক ও আত্মীয়রাও ক্লাবে উপস্থিত হন। বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ ক্লাবের দোতলায় শ্রাদ্ধ উপলক্ষে মধ্যাহ্নভোজন শুরু হয়ে গিয়েছিল। একতলায় তখনও চলছিল শ্রাদ্ধের শেষ পর্যায়ের কাজ।
[আরও পড়ুন: পুরবোর্ড না ভাঙা পর্যন্ত সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সৌমেন্দুর মামলায় মন্তব্য হাই কোর্টের]
স্বামীর ছবির সামনে বসেছিলেন বছর চৌষট্টির শিপ্রা মিত্র। তিনি যেখানে বসেছিলেন, তাঁর পাশেই ছিল জ্বলন্ত প্রদীপ। বুঝতেও পারেননি কখন তাঁর শাড়িতে প্রদীপ থেকে ধরে গিয়েছে আগুন। অল্প সময়ের মধ্যেই গোটা শরীরে আগুন ধরে যায়। চিৎকার করতে শুরু করেন তিনি। কীভাবে ওই বৃদ্ধাকে রক্ষা করা হবে, তা নিয়েই ধন্দে পড়ে যান অনেকে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে কাপড় চাপা দেওয়া হয়। আগুন নেভাতে জলও দেওয়া হয় শরীরে। তাঁর শরীরের নিম্নাংশ পুড়ে যায়। ওই অবস্থায় পরিজনেরা কসবার বি বি চ্যাটার্জি রোডের একটি নার্সিংহোমে তাঁকে ভরতি করানো হয়। চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। রবিবার নার্সিংহোমেই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। সোমবার ময়নাতদন্ত হয়। দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
